
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বগুড়ার সোনাতলা রেলস্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন উপজেলা যুবদল নেতা কামরুল হাসান বাবু। পাশাপাশি ভাঙচুর করা স্টেশনের কম্পিউটারও মেরামত করে দেন তিনি। ফলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পুনরায় কাজে ফিরেছেন রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সোনাতলা রেলস্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্টেশন মাস্টার জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবু একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন।
অঙ্গীকারনামায় যুবদল নেতা উল্লেখ করেন, বুধবার দুপুরে রেলওয়ের জায়গায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় টয়লেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণ ও রেলস্টেশনের কর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এ থেকে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এটি মোটেও উচিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি জনসাধারণের পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে রেলস্টেশনে কর্মরত কারও সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না বলেও লিখিত অঙ্গীকার করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সোনাতলা রেলস্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু নেতাকর্মী স্টেশন মাস্টারসহ সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মারধর করেন এবং বুকিং কাউন্টারের একটি কম্পিউটার ভাঙচুর করেন। এ ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে কর্মবিরতির ডাক দেন তারা।
এদিকে রেলওয়ের জায়গায় টয়লেট নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, সেখানে টয়লেট নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। অধিদপ্তরকে না জানিয়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই জায়গায় কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করার পর বর্তমানে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হয়েছে। ভাঙচুর হওয়া কম্পিউটারটিও রাতেই মেরামত করে দেওয়া হয়। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন এবং ট্রেনের সময়সূচিসহ স্টেশনের যাবতীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।