
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি // বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ৯ ডিসেম্বর সরকারি ভাবে কোন ছুটি ছিল না দিনটি ছিল পূর্ণ কর্মদিবস। অথচ লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে এই দিন কোন পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। কর্মদিবসের নিয়ম ভেঙ্গে কর্তৃপক্ষ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নাই কি কারনে খতিয়ে দেখা দরকার।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনে পতাকা উত্তোলনের স্ট্যান্ডটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মোজাম্মেলকে দ্রুত পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করতে দেখা যায়।
বাংলাদেশের ‘জাতীয় পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ (সংশোধিত-২০২৩)’ অনুযায়ী, সকল সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিটি কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক। তবে লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নিয়মটি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, ভবন নতুন হওয়ার পর থেকে জাতীয় পতাকা নিয়মিত উত্তোলন করা হয় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা আদিতমারীর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের যুবক শফিউল্লাহ বলেন,লালমনিরহাটের প্রায় সব সরকারি দপ্তরেই জাতীয় পতাকা উড়তে দেখি। কিন্তু পাসপোর্ট অফিসে গত ১৫ দিনে দু’বার এসেছি, একবারও পতাকা উত্তোলিত দেখতে পাইনি। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া পতাকা তুলতে সমস্যা কী তাদের?
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী। তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে পূর্ণ কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা না তোলা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি দায়িত্বহীনতার পরিচয়। সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।
তবে এ বিষয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তার দাবি,পতাকা উত্তোলন শুধু সরকার ঘোষিত দিবসে বাধ্যতামূলক। প্রতিদিন উত্তোলন করার নিয়ম নেই। চাইলে উত্তোলন করা যেতে পারে, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি হয়ে এমন বক্তব্যে আরও ক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রা।