
গতকাল ১৭ ডিসেম্বর (বুধবার) ছিল শাবনূরের জন্মদিন। এদিন নায়িকাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দীর্ঘ পোস্ট করেন কনকচাঁপা। লিখেছেন, ‘শাবনূর একটি পরিপূর্ণ প্রতিভাময় শিল্পীর নাম যাকে বাংলাদেশ কখনোই ভুলতে পারবে না। তার অভিনয় শৈলী, উচ্চারণ, দৈহিক সৌন্দর্য, চাঁদপানা মুখশ্রী গোলাপের মতো হাসি এবং নয়নযুগল পুরো যুবসম্প্রদায়কে কয়েক যুগ ধরে বুঁদ করে রেখেছে।’
শাবনূরের জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি বলেন, “‘শাবনূর’ এমন এক এপিসোড যা থেকে দর্শক কখনো বেরোতে চায়নি, চাইবেও না। তার মতো প্রতিভার অধিকারী শত জনমে একজনই হয়।”
শাবনূরের সিনেমায় গাওয়া গান নিয়ে এই সংগীতশিল্পী বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই তার জন্য গাইছি। আমি আমার মতো গেয়েছি সে তার মতো অভিনয় করেছেন। কিন্তু পর্দায় তার উপস্থিতি দেখে আমার নিজেরই বিশ্বাস হয়নি যে এটা আমি গেয়েছি, মনে হয়েছে এটা তারই কণ্ঠ। এই একাকার হয়ে যাওয়ার পুরো কৃতিত্ব শাবনূরকেই দিতে চাই।’
কথা বলেন শাবনূরের অভিনয় দক্ষতা নিয়েও। কনকচাঁপার ভাষ্য, “কবরীর পর শাবনূরই সেই ভার্সেটাইল মহানায়িকা যিনি সিরিয়াস চরিত্র, হাসির অভিনয়, ছটফটে দুরন্ত কিশোরীর ভূমিকা সমানভাবে দুর্দান্ত। তবে তার ভয়ংকর সুন্দর চোখে যখন অশ্রু ঝরে তখন একটা কথা মাথায় আসে ‘ফুল নেবো না অশ্রু নেবো ভেবে হই আকুল!’”
শাবনূরের সহজ সরল ব্যক্তিত্ব নিয়ে বলেন, ‘আমার ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিতে গিয়ে তার যে আন্তরিকতা দেখেছিলাম তা সত্যিই তাকে মানুষ হিসেবে অনন্য করে।’
শাবনূরের সিনেমায় নিজের গান গাওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই গর্বিত তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময়ই সাথে ছিলাম। তার অভিনীত একশো ভাগের নিরানব্বই ভাগ গানই আমার গাওয়া। আমাদের দুই দেহ এক প্রাণ বলা যায়।’
দেশের টিভি চ্যানেলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘কয়েকটি চ্যানেলে স্বপ্রনোদিত হয়ে বলেছি শাবনূর ও আমাকে নিয়ে একটা প্রোগ্রাম সাজাতে কিন্তু কোন চ্যানেলই এগোয়নি। বাংলাদেশে মূল্যায়ন পাওয়া খুবই কঠিন তবে আমার বিশ্বাস, একদিন আমার গান আর শাবনুরের অভিনয় সমন্বয় করে গবেষণা হবে, তখন হয়তো তা দেখার জন্য হয়তো কোন একজন থাকব না।’
সর্বশেষ শাবনূরের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে কনকচাঁপা লিখেছেন, ‘এই মহানায়িকার আনন্দিত সুখী সুদীর্ঘ জীবন কামনা করছি।’