1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
উচ্ছেদের তিন বছরেও পুনর্বাসিত হয়নি ৬ রাখাইন পরিবার - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

উচ্ছেদের তিন বছরেও পুনর্বাসিত হয়নি ৬ রাখাইন পরিবার

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫
  • ১২৬ 0 বার সংবাদি দেখেছে
38

তিন বছরেও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর নির্মাণে উচ্ছেদ হওয়া ছ-আনিপাড়ার ছয়টি রাখাইন পরিবারকে উপযুক্ত স্থানে পুনর্বাসন করা হয়নি। তাদের পুনর্বাসনের দাবিতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২৬ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে সভাটির আয়োজন করে ‘উচ্ছেদকৃত ৬টি রাখাইন পরিবার ও নাগরিক উদ্যোগ’।


উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্য চিংদামো রাখাইন বলেন, ‘পায়রা বন্দর নির্মাণের দ্বিতীয় দফায় আমাদের ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বসতভিটা অধিগ্রহণ করা হয় কোনো পূর্ব ঘোষণা বা আলোচনা ছাড়াই। আমরা গাছপালা ও বাড়ির জন্য কিছু ক্ষতিপূরণ পেলেও জমির মূল মূল্য আজও পাইনি। তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। শুরুতে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দেয়ার কথা থাকলেও ছয় মাস পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের পুনর্বাসন এখনই জরুরি।’


আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘যেখানে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোকে রাখা হয়েছে সেখানে তারা সাংস্কৃতিক নিঃসঙ্গতায় ভুগছেন। তাদের ঐতিহ্য, খাদ্যাভ্যাস, কৃষ্টি—সবই উপেক্ষিত। এমনকি পায়রা অঞ্চলে রাখাইন ভাষা আন্দোলনের যোদ্ধা উ সুয়ে’র নামে এখনও কোনো স্থাপনা গড়া হয়নি। এভাবে আদিবাসীদের ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াতকে দাবিনামা পাঠিয়েছি, তিনি বলেছেন- আই এম লুকিং ইনটু ইট। তবে আমাদের আত্মপ্রবঞ্চনার সংস্কৃতি ভাঙতে হবে। আদিবাসীদের তাড়িয়ে দিয়ে উন্নয়ন নয়, এ অবিচার বন্ধ করতে হবে।’
 

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘এই উন্নয়নের মূল্য কত পরিবার দিয়েছে, তা সরকার কখনও পরিশোধ করতে পারবে না। ভূমি অধিগ্রহণের নামে এটি এক ধরনের দখলদারিত্ব। সংবিধানে থাকা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বর্তমান ভূমি অধিগ্রহণ আইন সংশোধন জরুরি। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কোষাধ্যক্ষ মেইনথিন প্রমীলা বলেন, ‘এই ছয়টি রাখাইন পরিবারের গল্প আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়— উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের জীবন কীভাবে বিপন্ন হচ্ছে। শুধু ঘরবাড়ি নয়, তাদের পুকুর এবং কবরস্থান পর্যন্ত দখল হয়ে গেছে। সরকার আসে, সরকার যায়— কিন্তু দখল থামে না। শুধু দখলদার বদলায়।’

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, আদিবাসীদের সবসময় ‘অন্য’ হিসেবে দেখা হয়। সেই মানসিকতা থেকেই বারবার তারা উচ্ছেদের শিকার হন। ভূমির প্রকৃত মালিকদের উচ্ছেদ করে তাদের বস্তিতে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ উচ্ছেদ করে যে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে, তারাও সেখানে থাকেন না। এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews