নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশালের উজিরপুরে হারতা বাজার মৎস্য আড়তে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ বিক্রি করে ভাগ্য পরিবর্তন ঘটেছে শতাধিক পরিবারের। উপজেলার মধ্যবর্তী সন্ধ্যা নদীর শাখা কচা নদীর তীরঘেঁষা গড়ে ওঠা এ বিখ্যাত হারতা বাজার মৎস্য আড়তে এখন প্রতিদিন সকালে তরতাজা মাছের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে ভিড় জমাচ্ছেন।
স্থানীয় আড়তদাররা জানিয়েছেন, এ মাছ বাজারে কোটি টাকার মাছ বিক্রির রেকর্ড রয়েছে। ছয় মাস সাদা মাছ বাজারকে ঘিরে এ উপজেলার প্রায় শতাধিক পরিবারের সদস্য মাছ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের সংসারে এখন আর অভাব-অনটন নেই বললেই চলে। এ বাজারের সুনাম এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে মাছবাজারে দেখা গেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে উপজেলার হারতা ইউনিয়নের হারতা বাজারের কচা নদীর পাড়ে এ মাছ বাজারটি গড়ে ওঠে। সেই থেকে শুকনো মৌসুমের ছয় মাস এ বাজারে কেনা-বেচার কার্যক্রম চলে।
আবার বর্ষা এলেই বাজারের কিছু অংশ পানিতে ডুবে যায়। বিল অঞ্চলের বিভিন্ন নদী, খাল ও ঘের থেকে মাছ ধরে বিক্রির জন্য খুব সকালে জেলে ও চাষীরা এ আড়তে মাছ নিয়ে আসেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাজারটি পুরোপুরি জমে ওঠে। এখানে দৈনিক প্রায় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ বিক্রি হয়ে থাকে।
আড়তদার মাছ ব্যবসায়ী ফারুক মেম্বার জানান, ‘২০ বছর ধরে এ মাছ বাজার জমে আসছে। বাজারে প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা দেশীয় মাছ যেমন রুই, কাতল, শিং, মাগুড়, কৈ, টাকি, বোয়াল, চিংড়ি, টেংরা, চান্দা, চিকড়া, পুটি, বালিয়ারা, বাইম-সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনতে আসেন। স্থানীয় জেলে ও মাছের আড়তদাররা এ আড়তে মাছ বিক্রি করে শতাধিক পরিবারের সদস্যরা তাদের সংসার চালাচ্ছেন।’
হারতা মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নোয়া বাড়ৈ জানান, ‘পাইকাররা এখান থেকে অল্প দামে কিনে ট্রাক-পিকআপ বোঝাই করে সে মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। আবার অনেকে বিয়ে, জন্মদিন ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের অতিথি আপ্যায়নের জন্য মাছ কিনতে আসেন। শুরুর দিকে এ আড়তে পাঁচজন আড়তদার থাকলেও এখন ব্যবসা করেন ১০০ জন আড়তদার।








