
গাইবান্ধা প্রতিনিধি // গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একই স্থানে একই সময় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার রাজকুমার বিশ্বাস এই নির্দেশ দেন। বুধবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
বুধবার উপজেলা ও পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি অফিসগুলো তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের জান-মাল সুরক্ষা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পরিবেশ শান্ত থাকলেও সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাস্তায় লোকজনের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ওই এলাকায় রাতেই মাইকিং করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস, জানান বিএনপির দুই গ্রুপের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাসের আদেশে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সুন্দরগঞ্জ পৌর বিএনপির দুটি গ্রুপ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে অবস্থান করছে। ফলে সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ১৪৪ ধারা চলাকালে এলাকায় সকল প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, লাঠি বা দেশীয় কোনো অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, যেকোনো ধরনের মাইকিং বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার, ৫ বা তার অধিকসংখ্যক ব্যক্তির একত্র চলাফেরা, সভা সমাবেশ, মিছিল ইত্যাদি নিষিদ্ধ থাকবে। তবে এ আদেশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’
জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে বুধবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার স্বাধীনতা চত্বরে মিছিলসহ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে পৌর বিএনপি। একই সময় একই স্থানে কর্মসূচি ঘোষণা করে উপজেলা বিএনপি।
দুই গ্রুপের মধ্যে এক গ্রুপের নেতৃত্বে বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি মজারুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্না এবং অপর গ্রুপের আহবায়ক বাবুল আহমেদ ও সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক। কর্মসূচির সফল করতে মঙ্গলবার থেকে দুই পক্ষই পৌরসভা এলাকায় মাইকিং করে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।