1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে
77

নিজস্ব প্রতিবেদক // কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসছে হাজারো জেলিফিশ। সৈকতের বালুচরে আটকা পড়ে কিছু মারা যাচ্ছে, আর তার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশে। এতে পর্যটকরা অসুবিধায় পড়ছেন। গবেষকরা বলছেন, জেলিফিশের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সতর্ক সংকেত।

সরজমিনে দেখা গেছে, সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসছে স্বচ্ছ, ছাতার মতো দেহের অসংখ্য জেলিফিশ। গত দুই–তিন সপ্তাহ ধরে ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে হাজার হাজার জেলিফিশ। কিছু মৃত, কিছু জীবিত অবস্থায় তীরে এসে বালুচরে আটকা পড়ে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।

 
এসব জেলিফিশ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা পর্যটকদের অস্বস্তিতে ফেলে। এছাড়া উপকূলে মাছ শিকার করতে গিয়ে জেলেদের জালে জেলিফিশ প্যাঁচিয়ে যায়, ফলে জাল ছিঁড়ে নষ্ট হচ্ছে।

 
পর্যটকরা বলেন, প্রচুর জেলিফিশ দেখা যাচ্ছে। এগুলো আটকা পড়ে মারা যায়, পরে দুর্গন্ধ ছড়ায়। শরীরে লেগে গেলে চুল ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
 
জেলেরা জানান, নদীতে জাল ফেলার সময় জেলিফিশ জালের সঙ্গে প্যাঁচিয়ে যায়। জাল নষ্ট হয়, মাছও পাওয়া যায় না। যেই জায়গায় জেলিফিশ পড়ে, সেখানকার মাছ ধরাও ব্যাহত হয়।
 
 
গবেষকরা বলছেন, জেলিফিশ সাধারণত সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে শিকারি মাছের খাদ্য। সামুদ্রিক কাছিম এবং টুনা-ম্যাকারেলের মতো বড় মাছ এগুলো খেয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত মাছ আহরণ, অবৈধ ট্রলিং এবং দূষণের কারণে এসব শিকারি মাছ ও কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জেলিফিশের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া জেলিফিশ মাছের ডিম ও পোনা খেয়ে ফেলে, ফলে ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
 
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য জীববিজ্ঞান ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজিব সরকার বলেন, পরিবেশের জন্য এটি শঙ্কাজনক। খাদ্যশৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ইকোলজিক্যাল ইমব্যালেন্সের কারণে একটি প্রজাতি কমে গেলে অন্য একটি প্রজাতি অত্যধিক বৃদ্ধি পায়।
 
উপকূলে ভেসে আসা জেলিফিশকে স্থানীয়রা ‘সাদা জেলিফিশ’ বা ‘নোনা’ বলে চেনেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম ফাইলোরিজা পাংটাটা। বছর দুয়েক আগে এ অঞ্চলে একই রকমভাবে জেলিফিশের আধিক্য দেখা গিয়েছিল।
 
উপকূলে জেলিফিশের এই অস্বাভাবিক বিস্তারকে গবেষকরা সমুদ্রে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। দ্রুত গবেষণা এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews