
গৌরনদী প্রতিনিধি // বংশের কেউ ব্যাংকার, কেউ সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরিজীবী। অধিকাংশরাই কর্মস্থলের সুবাধে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে থাকায় অনেকের সাথে দেখা হয়না দীর্ঘবছর। গ্রামে যারা বসবাস করছেন তাদের কারো কারো সাথে চলে আসছে ভুল বোঝাবুঝি। যেকারণে বংশীয় লোকজনের সাথে সম্পর্কের বন্ধন কিছুটা শিথিল হয়ে হিংসা, রেষারেষি, দূরত্ব ও বিভেদ বাড়ছে। অবশেষে এসব সংকটের এক উত্তম সমাধান করতে আয়োজন করা হয় বংশীয় মিলন মেলা। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন করা হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী হাজীপাড়া এলাকায়। ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী গোষ্ঠী ফোরামের আয়োজনে পুরনো সকল ভেদাভেদ ভুলে সকল দ্বন্ধের অবসান ঘটিয়ে হাজী বংশের সবাই একত্রিত হয়ে বংশীয় মিলন মেলা, পরিচিতি সভা ও বংশের মৃত্যু ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেছেন। সবশেষে আয়োজন করা হয় নৈশভোজ। পুরো আয়োজনে ছিল হৃদ্যতা ও ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হাজী বংশের কৃতি সন্তান বেসরকারি ক্রান্তি এসোসিয়েটস লিমিটেডের সহকারি মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন মো. সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন-বংশীয় মিলন মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি একটি উপলক্ষ। এ উপলক্ষের মূল কারণ হচ্ছে-পরস্পরের সাথে দেখা হওয়ার, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার এবং পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে জাগিয়ে তোলার। তিনি আরও জানিয়েছেন-বংশীয় পরিচিতি ও মিলন মেলার মাধ্যমে সবাই একসাথে বসে খাওয়া দাওয়া, কথা বলা, নতুন ও পুরনো স্মৃতিচারণ করার মাধ্যমে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত হয়। অনেক ভুল বোঝাবুঝি এমন মিলনে শেষ হয়ে যায়। অনুষ্ঠানের সভাপতি হাজী বংশের কৃতি সন্তান আলহাজ মো. মকবুল হোসেন জানিয়েছেন-আমাদের সমাজে যদি প্রতি পরিবার বা বংশ বছরে অন্তত একবার এমন মিলন মেলার আয়োজন করতো, তাহলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত হবে। অনুষ্ঠানের অতিথি হাজী বংশের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার আলহাজ মাওলানা আব্দুর রশিদ হাওলাদার জানিয়েছেন-এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছোট-খাটো ঝগড়া, মতবিরোধ, ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়ে যায়। পাশাপাশি সমাজের সহনশীলতা, ভালোবাসা ও সহানুভূতির জায়গা তৈরি হয়। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক হাজী বংশের সন্তান আলহাজ ডাক্তার মহাসীন বলেন-বংশীয় মিলন মেলা কেবল একটি আনন্দ আয়োজন নয়, এটি এক সামাজিক দায়িত্ব। প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি গোষ্ঠী যদি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তবে সমাজ হবে শান্তিময়, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং মিলনের এক অপূর্ব নিদর্শন। ঐতিহ্যবাহী হাজী বংশের মিলন মেলা, দোয়া ও পরিচিতি সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়ক জহুরুল ইসলাম জহির, সাংবাদিক আবু সাঈদ খন্দকার, হাজী বংশের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকতা আলহাজ মাওলানা সামসুল হক হাওলাদার, ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আলহাজ প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসাইন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ মো. আলাউদ্দিন, মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জহিরুল ইসলাম, নুরে আলম সিদ্দিকী পলাশসহ অন্যান্যরা। সবশেষে হাজী বংশের মৃত্যু ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত শেষে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।