বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক। ছয় সদস্যের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। গত কয়েকদিন ধরেই এলপিজি গ্যাস সংকটে থমকে গেছে তার গাড়ি ও আয়ের চাকা। জমা টাকা ভেঙেই চলছে দিন।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জমানো টাকা ভেঙে বাজার করতে হচ্ছে। এখন যদি পুরোপুরি গ্যাস না পাই, তাহলে আমার সত্যিই বড় সমস্যা হবে।
সরজমিনে শহরের সিএন্ডবি রোড এলাকার কেডি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, গ্যাসচালিত সিএনজির দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদানুযায়ী মিলছে না এলপিজি গ্যাস। ফলে থ্রি-হুইলার চালকদের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
চালকরা বলেন, গত তিন-থেকে ৪ দিন ধরে গ্যাস মিলছে না পর্যাপ্ত। বরিশালের কোনো জায়গায় গ্যাস নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হয়ত কোথাও কোথাও ৪০০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে আমদানি কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে হয়ে বলে দাবি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের। তারা বলেন, গ্যাস ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস সংকট তীব্র রূপ ধারণ করেছে। অনেকদিন পরে পরে গ্যাস আসে।
তবে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন বলেন, যদি কোনো ব্যবসায়ী নিজে সমস্যা তৈরি করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হবে পরিস্থিতি যাচাই করার জন্য। যদি দেখা যায় এদের কোনো অনৈতিক কাজ বা কারসাজি আছে, তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকট তীব্র হলে বরিশালের প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন।