1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
জরাজীর্ণ থানায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

জরাজীর্ণ থানায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৩ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // চাঁদপুরের হাইমচর থানায় যারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের নিজেদের নিরাপত্তাই এখন চরম অনিশ্চয়তায়। থানার মূল ভবনের বিম, কলাম ও ছাদজুড়ে দেখা দিয়েছে ফাটল। বিভিন্ন স্থানে রডে মরিচা ধরে খসে পড়ছে কংক্রিট ও পলেস্তারা। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। অথচ বাধ্য হয়েই মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে দিন-রাত দায়িত্ব পালন ও বসবাস করছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য।

সরেজমিন দেখা যায়, ভবনটির প্রায় প্রতিটি বিম ও কলামে গভীর ফাটল। ছাদ ও দেয়ালজুড়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব, ড্যাম্পনেস ও শ্যাওলা জমে আছে। কোথাও কোথাও গজিয়েছে আগাছা ও জঙ্গল। ভবনে ওঠানামার দুটি সিঁড়ির বিভিন্ন অংশে রড বের হয়ে ঝুলছে। বারান্দার অধিকাংশ কলামের ভেতরে পানি ঢুকে রডে মরিচা ধরেছে। এতে কংক্রিট খসে পড়ায় ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। নদীপাড়ের এই উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের নিরাপত্তা ও আইনি সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন হাইমচর থানার পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তাদের কর্মস্থল ও আবাসস্থলই এখন পরিণত হয়েছে আতঙ্কের স্থানে।

থানায় কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, ভবনটির বর্তমান অবস্থা তাদের কাছে অত্যন্ত ভীতিকর। থাকার অনুপযোগী হলেও দায়িত্বের কারণে বাধ্য হয়ে এখানেই অবস্থান করতে হচ্ছে। এএসআই হান্নান বলেন, ‘সারা দিন প্রচণ্ড পরিশ্রম ও ডিউটি শেষে যখন থানায় ফিরে একটু বিশ্রাম নিতে যাই, তখন ঘুম তো দূরের কথা, আতঙ্কে মন ছটফট করে। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি ভবনটি আমাদের ওপর ধসে পড়ল।’

এএসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন স্থানে এমন বাজেভাবে ফাটল ধরেছে যে, মাঝারি মাত্রার কোনো ঝড় বা আঘাত এলেই এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্লান্ত শরীরে ঘুমাতে গেলেও দুশ্চিন্তায় চোখে ঘুম আসে না।’ এসআই সমীর দাস বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও আমরা ফ্যান চালাতে পারি না। এর আগে কয়েকবার সিলিংয়ের প্লাস্টারসহ ফ্যান খুলে নিচে পড়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। সেই আতঙ্কে এখন ফ্যান না চালিয়েই গরমের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, হাইমচর নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা। ১৯৯৮ সালে ভয়াবহ নদীভাঙনের পর অনেকটা তাড়াহুড়ো করে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের সময় মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখানেই বসবাসকারী সবাই প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন।

ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ফায়ার সার্ভিসের হাইমচর ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ভবনটিতে যে ধরনের ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে, তাতে সামান্য ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতেও এটি হুড়মুড় করে ধসে পড়তে পারে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার মানও আরও উন্নত হবে।

চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো বলেন, দুই তলা ভবনটি ১৯৯৮ সালে ‘বক্স টাইপ প্ল্যান’ ও ব্রিক স্ট্রাকচারে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে অতিমাত্রায় ড্যাম্পনেসের কারণে বিম, কলাম ও ছাদসহ ভবনের প্রায় প্রতিটি অংশের রডে মরিচা ধরে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সামান্য মেরামত করে ভবনটি স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য করা গেলেও, তা কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

তিনি আরও বলেন, ভবনটির ঝুঁকির বিষয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকেই নিতে হবে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে, নাকি সাময়িকভাবে মেরামত করা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews