ঝালকাঠিতে এসএ পরিবহন পার্সেল সার্ভিসের অফিস থেকে ম্যানেজার শেখর বিশ্বাসের (৪৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে অফিসের স্টাফ নাঈম হাসান প্রথমে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
শেখর বিশ্বাস গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মাছকান্দি গ্রামের মৃত শরৎ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
জানা যায়, দীর্ঘ আট বছর ধরে শেখর বিশ্বাস এসএ পরিবহনের ঝালকাঠি শাখায় কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঝালকাঠিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে এখানকার স্কুলে পড়াশোনা করে। সম্প্রতি হঠাৎ করে তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, বদলির চাপ ও সময় না দেওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শেখর।
শেখরের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী বদলির অর্ডার পান। তিনি অফিসে আরও ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন, কারণ আমাদের ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়াশোনা করছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। হঠাৎ বদলির চাপে তিনি ভীষণ হতাশ ছিলেন। কোম্পানির ঊর্ধ্বতনদের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’
সহকারী ম্যানেজার জাহিদ হাসান বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ অফিস থেকে খবর পাই শেখর ভাই নেই। পরে স্টাফ নাঈম ভেতরে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। আমরা হতবাক হয়ে যাই। এটা খুবই কষ্টের ঘটনা।’
এসএ পরিবহনের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের ম্যানেজার মো. শাহদাত হোসেন বলেন, ‘গত আগস্ট মাসের ২৮ তারিখ শেখর সাহেবের বদলির নোটিশ আসে। এরপর তিনি সময় চেয়ে কোনো আবেদন করেননি। তাছাড়া তিনি এখানে প্রায় আট বছর যাবত কর্মরত ছিলেন। তাই অফিসের নিয়মাবলী মেনেই তাকে বদলির চিঠি দেওয়া হয়েছিল।’
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে।