1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ 0 বার সংবাদি দেখেছে
প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হলো রোহিঙ্গাদের। দীর্ঘ এই শরণার্থী জীবনে ক্লান্ত, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন লাখো রোহিঙ্গা এখন ফিরতে চান নিজ ভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে। তবে শুধু ফিরে যাওয়া নয়; নাগরিকত্ব, জাতিগত পরিচয়, বসতভিটা ও জমিজমার অধিকার এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়েই স্বদেশে ফিরতে চান তারা। রোহিঙ্গাদের স্পষ্ট কথা- অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে তারা আরেক দফা নির্যাতনের মুখে পড়তে চান না।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেন। কক্সবাজারে আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা ও নতুন করে আসা আরও দেড় লাখসহ ১২ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। নয় বছর ধরে তারা অপেক্ষা করছেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনের। কিন্তু একাধিক উদ্যোগ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরও একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, প্রত্যাবাসনের পথ ততই কঠিন হয়ে উঠছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও রাখাইনে চলমান সংঘাত এখন প্রত্যাবাসনে বড় বাধা। বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে সেখানে ফিরে গিয়ে রোহিঙ্গারা নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন কিনা, তা নিয়েও রয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। রোহিঙ্গা নেতারাও বলছেন, নিজ দেশে ফেরার প্রবল আকাক্সক্ষা থাকলেও যুদ্ধের মধ্যে তাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে সে দেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত নিধন শুরু করলে হলে গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আসতে থাকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল। ২৫ আগস্টের পর দুই তিন মাসের মধ্যেই উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা। এ ছাড়া কক্সবাজারে আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা ও গত এক বছরে নতুন করে আসা

দেড় লাখসহ ১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা ৩৩টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে। পরবর্তীতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা হয়। ২০১৭ সালেই বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করে। পরে কয়েক দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেও একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফেরত যায়নি। সরকারের শরণার্থীবিষয়ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরে গেছে। সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এ সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়।

সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানিয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা তারা শনাক্ত করতে পেরেছে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে। বাংলাদেশে থাকা আর ১ লাখ রোহিঙ্গাকে তারা শনাক্ত করেছে সন্ত্রাসী ও বাঙালি হিসেবে। রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মাওলানা সৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমাদের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, জাতিগত পরিচয়, জায়গা-জমি ও গণহত্যার বিচারের নিশ্চয়তা না পেলে আমরা মিয়ানমারে গিয়ে আবার সেদেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পড়ব। তারপর আমাদের বাঙালি বলা হচ্ছে। আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। সে দেশে আমাদের সবকিছু আছে। আমরা শুধু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। তাছাড়া আরকান রাজ্য এখন আরাকান আর্মির দখলে। আরাকান আর্মি সেখানে নানা প্রকার নৈরাজ্য চালাচ্ছে।

১৫ নম্বর ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা জুলফিকার হায়দার বলেন, আমরা অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরতে চাই। মিয়ানমার আমাদের দেশে। আমরা অন্য দেশে থাকতে চাই না। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাইলে সুষ্ঠুভাবে ফেরাতে পারে। গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে আমরা স্মরণসভাসহ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করব।

১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা সব সময় আমাদের দেশে চলে যেতে চাই। কিন্তু সেখানে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি। এ অবস্থায় আমরা কীভাবে যাব।

রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মৌলানা সৈয়দ আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আমরা এক মিনিটও থাকতে চাই না। বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না আসলে আমাদের এই সমস্যার সমাধান হবে না।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইট-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, মিয়ানমার আমাদের বাঙালি বলে আখ্যায়িত করে প্রেস জারি করেছে। আমাদের আলাদা জাতিসত্তা আছে। আমরা রোহিঙ্গা, বাঙালি নই। শুধু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। শুধু বাংলাদেশ চাইলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসতে হবে এ সংকট সমাধানে।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কাছে আমাদের নিবেদন, তিনি যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হাতে নিয়ে আমাদের নিজভূমিতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন।

এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যত বিলম্ব হচ্ছে, ততই স্থানীয়দের ওপর প্রভাব পড়ছে দাবি করে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন রাজা পালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গারা নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের শ্রম বাজার দখল করছে। এতে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তাই আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গারা যেন তাদের দেশে ফিরে যায়। সরকার যেন সেদিকে বেশি নজর দেয়।

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি, আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু তাদের কারণে আমাদের দেশে দিন দিন সমস্যা বেড়েই চলছে। আমাদের শ্রমবাজার তারা দখল করে নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাদের নির্দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে এখন সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১২ লাখের অধিক হলেও বেসরকারি হিসাবে ২০ লাখের মতো রোহিঙ্গা বসবাস করছে। কক্সবাজার শহরসহ আশপাশের এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে তারা বসবাস করে নানা রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে আবার বাংলাদেশের ভোটার হয়ে যাচ্ছে। তাই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি কঠোর নজরদারি প্রয়োজন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবিতে (আজ) ২৫ আগস্ট সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মানববন্ধন করবে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি।

রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশ্লেষক সুজা উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি এখন পর্যন্ত। রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হয়েছে। এ সংকট নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গা দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত জাতি-গোষ্ঠী, মিয়ানমার দ্বারা নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের গণহত্যা চলেছে। বিশ্ববাসী দেখেছে, কিন্তু সেই গণহত্যার বিচার এখনও হয়নি। এ গণহত্যার বিচার না হওয়ার কারণে মিয়ানমার আরও দিন দিন উগ্র হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ফেরাতে হলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধান করতে হবে।

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে উল্লেখ করে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কার্যালয়ের কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ দিনটি রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস পালনের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি চায় রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে রোহিঙ্গা আগমনের আজ ৯ বছর পর এসে যেসব সরকারি-বেসরকারি, এনজিও, আইএনজিও ও দাতা সংস্থা কাজ করছে তারাও এখন ক্লান্ত। বলতে গেলে রোহিঙ্গাদের বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন সরে গেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বার্ষিক বরাদ্দ কমে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। যার কারণে এখানে দিন দিন সংকট তৈরি হচ্ছে। কমে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য, যা এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার জন্য খুবই প্রয়োজন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকার সবসময় প্রস্তুত। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার কারণে সেটি শুরু করা যাচ্ছে না। মিয়ানমারে যেহেতু সংকট শুরু হয়েছে তাই মিয়ানমারকেই এ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হবে।

স্থানীয়দের নানামুখী সংকট থেকে বাঁচাতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দাবি সচেতন মহলের।

রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারে এবং এই অঞ্চলে একটি শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেই লক্ষ্যে যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসে এমনটাই প্রত্যাশা রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকরাও বিষয়টি নিয়ে অনেকটা গা-ছাড়া ভাব দেখাচ্ছেন। গত দুই দিনে রাজধানীর শেরাটন ও লেকসোরে রোহিঙ্গাবিষয়ক দুটি সেমিনারে বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিও ছিল নামেমাত্র।

কক্সবাজারে জাতিসংঘের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী একাধিক এনজিও কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিওএফও) আগামী অক্টোবর পর্যন্ত খাবার জোগানের ব্যবস্থা রেখেছে। এরপর কী হবে তা নিয়ে সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। তবে একজন কর্মকর্তা আশাবাদী হয়ে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরকে জাতিসংঘ উপোস রাখবে এমনটি কেউ মনে করে না।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, যে পরিমাণ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি জাতিসংঘ এবং দাতারা দিয়েছিল, এখন পর্যন্ত তা পাওয়ার কোনো আভাস মিলছে না। আসলে একটা সমস্যা দীর্ঘদিন জিইয়ে থাকলে মানুষ যেমন দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নেয়, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সে অবস্থা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং, মেরংলোয়াসহ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনপদে ২০১৭ সালে ব্যাপক গণহত্যা চালায় জান্তা বাহিনী। পুরুষ, নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এ অবস্থায় প্রাণে বাঁচতে কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেন। নিপীড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় ওই সময় বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে প্রশংসা পায়। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশের দাবি ছিল নিরাপদে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে বাংলাদেশ জান্তা সরকারকে রাজিও করিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নিজ দেশের রাজনৈতিক টানাপড়েনে পড়ে যায় মিয়ানমার। বর্তমানে সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে। সম্প্রতি মিয়ানমার বলেছে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করতে তারা সক্ষম হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews