
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বরিশালে বাবার মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না পেয়ে কারাগারেই মরদেহ দেখে শেষ বিদায় জানাতে হয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মহানগর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. শাহরুখ খানকে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে ঘিরে মানবিকতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে নগরের নিউ সার্কুলার রোডের নিজ বাসা থেকে শাহরুখ খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
বুধবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার বাবা আবুল বাশার খান (৫৮)। তিনি নগরের বটতলা টেম্পুস্ট্যান্ডে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শাহরুখের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় পরিবারটি অনিশ্চয়তায় পড়ে।
শাহরুখের ভাই সালমান খান সাগর বলেন, “আমরা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় জেলা প্রশাসকের অফিসে অপেক্ষা করেছি। পরে একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে কারাগারে যেতে বলেন। কিন্তু কারাগারে গিয়ে জানতে পারি, এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা সেখানে পৌঁছেনি।”
পরে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের তিন সদস্যকে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য শাহরুখ তার বাবার মরদেহ দেখতে পারেন।
এরপর নগরের নিউ সার্কুলার রোডের গাজিবাড়ি মসজিদে বাদ আসর জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার করাপুর ইউনিয়নের পপুলার এলাকায় দাফন করা হয়।
শাহরুখের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, “প্যারোলে মুক্তির জন্য যথাযথ আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়নি—যা দুঃখজনক।”
পরিবারের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত অস্থায়ী প্যারোল দেয়া যেত। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিকল্প হিসেবে কারাগারের ভেতরে মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা বলেন, “প্যারোলের আবেদন পাওয়া গিয়েছিল। জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন, যেন মরদেহ কারাগারে নিয়ে গিয়ে দেখা করার ব্যবস্থা করা হয়। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মোহাম্মদ মাহবুব কবির ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, শাহরুখ খান একাধিক মামলার আসামি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আগে দায়ের হওয়া আটটি মামলার পাশাপাশি গ্রেপ্তারের পর আরও তিনটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে নিয়ম মেনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মানবিক বিবেচনার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।