1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
বরিশালে ৩ কোটি টাকার ইটভাটা দখলের চেষ্টায় দুই মামলার পর ঝড় - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

বরিশালে ৩ কোটি টাকার ইটভাটা দখলের চেষ্টায় দুই মামলার পর ঝড়

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ 0 বার সংবাদি দেখেছে
28

স্টাফ রিপোর্টার।। বরিশাল সদর উপজেলার ৯নং টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের নেহালগঞ্জ গ্রামে অবস্থিত ‘খান ইটভাটা’ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগে দুইটি পৃথক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

নগরীর সাগরদী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট রোড এলাকার (২৪নং ওয়ার্ড) বাসিন্দা মোঃ জাকির খানের স্ত্রী মোসাঃ মাহিনুর বেগম (৩৬) বাদী হয়ে বরিশালের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপি মামলা নং ১৬৭/২০২৫ (বন্দর) এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা নং ৩৩/২০২৫ (বন্দর) দায়ের করেছেন। দুটি মামলায় মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে – মৃত ওয়াজেদ আলী হাওলাদারের ছেলে আমিরুল ইসলাম মোসলেম (৬৫), মোঃ ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদার (৪০), মৃত সুজদ্দিন হাওলাদারের ছেলে আব্দুল রাজ্জাক হাওলাদার (৬২), বেলায়েত আলী হাওলাদারের তিন ছেলে মোশারেফ হাওলাদার (৫০), নাসির হাওলাদার (৪৫) ও সুমন হাওলাদার (৩৫), মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে রুবেল হাওলাদার (৩২), মৃত আবুল হোসেন মৃধার ছেলে শাহ আলম মৃধা (৫৫) এবং আব্দুর রশিদ হাওলাদার (৫৭)। এছাড়াও আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মোট প্রায় ৩ কোটি টাকার ইটভাটা, স’মিলের মেশিন, মাটি মিক্সচার মেশিন, স্টিল বডি ট্রলার এবং জমি বায়না বাবদ ৬০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয়।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ‘হাওলাদার ব্রিকস’-এর মালিক হেলাল হাওলাদারের কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে ‘খান ব্রিকস’ নামে ইটভাটার ব্যবসা শুরু করেন জাকির খান। তিনি নিজস্ব মূলধনের পাশাপাশি মেঘনা ব্যাংক থেকে ৭০ লাখ, এনসিসি ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ এবং ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে ‘খান ব্রিকস’ অল্প সময়েই সফলতা অর্জন করে। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে গিয়ে জাকির খান প্রথমে ইটভাটার ৪৫ শতাংশ জমি নিজের নামে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুল ইসলাম মোসলেম, তার স্ত্রী, নুরুল ইসলাম, রাজ্জাক, নিজাম ও রশিদ গং-এর কাছ থেকে আরও প্রায় ২০০ শতাংশ জমি বায়না সূত্রে অধিগ্রহণ করেন। এসব জমির মালিকরা বায়নার টাকা গ্রহণ করে রেজিস্ট্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কূটকৌশলের কারণে এখন ব্যবসাটি দখলের মুখে পড়েছে।

বাদী মোসাঃ মাহিনুর বেগম বলেন, “স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে একাধিকবার দেন-দরবার হয়েছে। গোপনে ও প্রকাশ্যে চাঁদাও দিতে হয়েছে। এখন আমার স্বামী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমাদের ব্যাংকে মোটা অঙ্কের ঋণ রয়েছে। কয়েক লাখ ইটসহ চলমান ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় তারা জোরপূর্বক ভাটার ইট নিয়ে মসজিদ ও ঘর নির্মাণ করেছেন। আমরা ভাটায় গেলে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। আনুমানিক তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়ে গেছে আসামিরা। এখন আমাদের ইট বিক্রি বা মালামাল তুলতেও দিচ্ছে না।”

এ বিষয়ে মামলার এক নম্বর আসামি আমিরুল ইসলাম মোসলেম বলেন, “আমরা তার ( জাকির খান ) কাছে টাকা পাই আমরা বলেছি পাওনাদারদের টাকা পয়সা বুঝিয়ে দিয়ে মালামাল নিয়ে যেতে। পরে শুনেছি সে আমাদের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আমরাও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। ”

এদিকে,ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দখলচেষ্টাকারী প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
আর. এম মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Theme Customized By BreakingNews