
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপু-বাগাতিপাড়া) আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির মনোনীত নারী প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে গৌরীপুরে নেতাকর্মীদের সাথে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ জানিয়ে ডাঃ ইয়াসির আরশাদ রাজন বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে লালপুর উপজেলার গোপালপুরে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির মনোনীত নারী প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে যে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী। রাজনীতি করার আগে মুখের ভাষা ও ভদ্রতা শিখে আসা উচিত। একজন নারী সম্পর্কে কীভাবে কথা বলতে হয় সেটাও জানা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বয়স বাড়লে যদি বুদ্ধি ও জিহ্বার নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে এমন মন্তব্যের দায় শুধু অর্থদণ্ডে শেষ হতে পারে না। লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষ ধৈর্যশীল বলেই সেদিন বড় ধরনের কোন প্রতিক্রিয়া হয়নি। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রাজন আরো বলেন, লালপুরের পবিত্র মাটিতে ফজলুর রহমান পটল ও সাবেক এমপি মমতাজ উদ্দিনের মতো রাজনীতিবিদরা শায়িত আছেন। আমরা ১৯৯১ সাল থেকে তাঁদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার দেখে এসেছি। যারা ফজলুর রহমান পটলের অনুসারী বলে দাবি করেন, তারা তার ভাষা ও আচরণ থেকে কিছুই শেখেননি।
ডাঃ রাজন অভিযোগ করে বলেন, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের সময় সতন্ত্র সেই প্রার্থী ও তার সমর্থকদের হাসি ও হাততালি প্রমাণ করে তাদের কাছে নারীরা নিরাপদ নয়। যাদের কাছে লালপুর-বাগাতিপাড়ার মা-বোন ও মাটি নিরাপদ নয়, তাদের থেকে দূরে থাকার জন্য সকলকে আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২৪ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর সভার কড়ইতলা এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপুর নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাবু রঞ্জিত কুমার সরকার বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে। পরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবির হোসেন সেই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নেন।