1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
মোরেলগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীর মৃত্যুর মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড় - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

মোরেলগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীর মৃত্যুর মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ২২ 0 বার সংবাদি দেখেছে

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি // বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা তরুণী মীম আক্তারের (২৪) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মামলার বাদী ও নিহতের পিতা মিলন জোমাদ্দার আদালতে একটি এফিডেভিট দাখিল করে দাবি করেছেন, ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে তিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মীম দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে (এপিলেপসি) আক্রান্ত ছিলেন এবং ওই রোগের জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বাদীর দাখিল করা এফিডেভিট নং-৩১৫/২৬, তারিখ: ২৪ জুন ২০২৬-এ উল্লেখ করা হয়েছে, কন্যার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তিনি অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তিনি জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন এবং ওই রোগের জটিলতার কারণেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এ কারণে তিনি আদালতের কাছে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
এর আগে, গত ২১ জুন ২০২৬ মীম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা মোরেলগঞ্জ থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৭, তারিখ: ২১/০৬/২০২৬; জি.আর. নং-১৬৯/২৬। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামের নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৭০)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে।
বাদীর সর্বশেষ এফিডেভিট প্রকাশ্যে আসার পর মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিযোগকারী পক্ষের অবস্থান পরিবর্তন হওয়ায় এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এফিডেভিট তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও এটি একমাত্র ভিত্তি নয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ফরেনসিক আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তে প্রাপ্ত অন্যান্য উপাত্তের ভিত্তিতে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
আইনজীবীদের মতে, হত্যা কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলায় বাদী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি হয় না। রাষ্ট্রপক্ষের মামলা হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মীম আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews