
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের জন্য এমন জান্নাত রয়েছে যার পাদদেশে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। (সুরা আল-বাকারা: ২৫ ও ৮২)
অন্যদিকে হাদিসে জাহান্নামের শাস্তির ভয়াবহতার কথাও বর্ণিত হয়েছে। নু’মান ইবনু বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ মুসলিমের এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিও এত কঠিন হবে যে, একজন ব্যক্তিকে আগুনের তৈরি জুতা পরানো হবে। সেই আগুনের উত্তাপে তার মস্তিষ্ক ফুটন্ত পাতিলের মতো টগবগ করতে থাকবে। তবু তার মনে হবে, তিনিই সবচেয়ে কম শাস্তি পাচ্ছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১০)
আখিরাতে মুক্তি লাভের উপায় সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে মহানবী (সা.) উম্মতকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তাওহিদের কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর গুরুত্ব।
আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারির এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন আবু যার (রা.) জানতে চান, যদি সে ব্যক্তি জীবনে ব্যভিচার বা চুরি করে থাকে, তবুও কি সে জান্নাতে যাবে? উত্তরে নবীজি (সা.) তিনবারই বলেন, হ্যাঁ যদি সে ওই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করে।
ইমাম বুখারি (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, এ সুসংবাদ তাদের জন্য, যারা মৃত্যুর আগে আন্তরিকভাবে তাওবা করে আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস রেখে মৃত্যুবরণ করে। সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাদের পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪১০)
এ ছাড়া ওসমান (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ মুসলিমের আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৩)
ইসলামি শিক্ষায় তাই ঈমান, তাওবা এবং সৎকর্মের ওপর অবিচল থাকার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর একত্বে অটল বিশ্বাস ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টাই আখিরাতের সফলতার মূল ভিত্তি।