
আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট // লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারী স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি ব্যবসার মৌসুম শুরু হতে না হতেই একটি অজ্ঞাত স্বার্থান্বেষী চক্রের কূটকৌশলের ফলে ব্যবসায় ধ্বস ও পুঁজি হারানোর শঙ্কা করছেন বুড়িমারি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।
তারা বলছেন, বুড়িমারি দিয়ে বন্দর কেন্দ্রিক সরকারি-বেসরকারি সমস্ত অংশীজনদের সহযোগিতায় নতুন মৌসুমের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যখন নির্বিঘ্নে চলছে, তখন ওই স্বার্থান্বেষী মহলটি নানা অপপ্রচার ছড়িয়ে তাতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে।
ইতিমধ্যে তারা নাম ঠিকানা বিহীন শুধু ফেক ই-মেইল ব্যবহার করে একটি আবেদন পত্র সহকারী কমিশনার বুড়িমারী স্থলবন্দর বরাবর ঘুষের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তা বন্ধের আবেদন করেছে। কার্যত তা নিয়ে স্থলবন্দরে কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।
এ রকম অপপ্রচারের কারণে পণ্য খালাস ও ছাড়করণে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হলে বাইরের আমদানি ও রপ্তানিকারকরা বুড়িমারি স্থলবন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । আর এতে আমদানি-রপ্তানি কমে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিক-কর্মচারীসহ বন্দর কেন্দ্রিক রুটি-রুজির যোগাড় হয় এমন বহু স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারে ভাটা পড়তে পারে বলে চিন্তিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মকর্তা কর্মচারী। অতীতেও কয়েকবার এমন সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে একাধিক সদস্য বলেন, বুড়িমারি বন্দরে ভারত ও ভুটান থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে, যার বেশিরভাগই শুল্ককর মুক্ত। স্থলবন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিধি-বিধান অনুযায়ী দ্রুততার সঙ্গে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করে থাকেন।
কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহলটি এমন অনেক মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে, যাতে এ বন্দরকেন্দ্রিক দায়িত্বপালনকারী সরকারি কর্মকর্তাগন আরও কড়াভাবে নজরদারি চালিয়ে পণ্যচালান খালাস ও ছাড়করণে সময় বেশি লাগান।
এতে বুড়িমারি স্থলবন্দর ব্যবহারকারী আমদানি ও রপ্তানিকারকরা বাধ্য হয়ে অন্য কোনো বন্দরে চলে যাবে।
এ বিষয়ে আমদানী ও রফতানি কারক ব্যবসায়ী মেসার্স সইদার রহমান মুক্তিযোদ্ধার স্বত্বাধিকারী নুর ইসলাম জানান অতীতেও এ জাতীয় সমস্যা বুড়িমারী স্থলবন্দরে তৈরি করায় অনেক পণ্যের আমদানিকারক অন্যত্র চলে গিয়েছেন এক সময় তারা বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে ভূষি, আটাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী আমদানি করতেন। কিন্তু অতীতেও ঠিক এরকমের বিভিন্ন উস্কানীমূলক তৎপরতার কারনে সমস্যা তৈরি করায় এসব পণ্যের আমদানি কারকরা আর এ বন্দর ব্যবহার করছেন না।
আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নামে ওই স্বার্থান্বেষী মহলটি দীর্ঘদিন ধরে এসব অপতথ্য ছড়াচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন বুড়িমারি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য উক্ত স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মেসার্স সোনাবিবি ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ বলেন, বুড়িমারি স্থল শুল্কস্টেশন দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের বেশিরভাগই শুল্ককর মুক্ত এবং এ মৌসুমে আমদানিকৃত শুল্ককর মুক্ত ভুটানিজ কমলার বাজার নষ্ট করার জন্যই ওই চক্রটি উঠেপড়ে লেগেছে। স্বার্থান্বেষী ওই চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই স্থূল বন্দর কেন্দ্রিক সকল ব্যবসায়ী ।