সম্রাটকে লালনপালন করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালীয়াতলী ইউনিয়নের খামারি খোকন গাজী। গত পাঁচ বছর ধরে গরু পালন করছেন তিনি। তার খামারে বিভিন্ন জাতের গরু থাকলেও আমেরিকান ফ্লাগ-বি জাতের সম্রাট নজর কেড়েছে সবার। বয়স তিন বছর।
সম্রাটকে প্রতিদিন খেতে দেয়া হয় প্রায় এক মণ প্রাকৃতিক খাবার। যার মধ্যে রয়েছে অন্তত ২০ কেজি ঘাস ও ভুসি ইত্যাদি। গোসল করানো হয় শ্যাম্পু দিয়ে, আর গরমে আরাম দিতে রয়েছে ফ্যানের ব্যবস্থা।
খামারি খোকন গাজী জানান, তিন বছর আগে ১ লাখ টাকায় বলদ বাছুরটি কিনে আনি। তখন থেকেই পরিবারের সদস্যের মতো করে গরুটিকে পালন শুরু করি। ওর ঘাস খাওয়ার আগ্রহ দেখে শুরুতে শুধু ঘাসই দিতাম। এখন প্রতিদিন ৭০০ টাকার মতো খাবার লাগে।’
গরুটি এতটাই বড় যে একা সামলানো সম্ভব নয় জানিয়ে খোকন বলেন, ‘খামার থেকে বের করতে কয়েকজনের সাহায্য লাগে। তবে বিক্রি না হলেও চিন্তা নেই, কারণ ওর শরীরে কোনো রোগ নেই।’
ঈদে গরুটি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মালিক খোকন গাজী। ফলে গোটা উপকূলজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। খামারি সম্রাটের দাম চেয়েছেন ১০ লাখ টাকা। বিশাল আকৃতির এ গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই খোকনের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। কেউ কেউ দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ মাঝি বলেন, ‘আমার বয়স ৭০ বছর। শুধু ঘাস আর লতাপাতায় গরু এত বড় হতে পারে, তা কোনোদিন দেখিনি।’
স্থানীয় একজন পশু ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ গরু যদি এখানেই বিক্রি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ভেজালমুক্ত মাংসের স্বাদ পাবে।’
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মারুফ বিল্লাহ খান বলেন, ‘ভেজালের ভিড়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সম্রাট বিরল একটি দৃষ্টান্ত। কোরবানির হাটে বিক্রি হলে এটি বাজারে সাড়া ফেলবে বলে আশা করি।