
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত এক করে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
গত জাতীয় নির্বাচনে ভোটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোট দিলেও তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মানুষ তাদের বলেছে, ভোট দিয়েছিল, কিন্তু তারা সেই ভোট রক্ষা করতে পারেননি। ওই নির্বাচনের ভুল ও দুর্বলতা নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করলে একই ভুল আর হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর তাগিদ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। দেশ কারা পরিচালনা করবে, তা জনগণই ঠিক করবে।’
সমাজ পরিবর্তনের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বসে বসে আর তামাশা দেখা হবে না। সংগতভাবেই প্রতিবাদ করা হবে এবং যেখানে সামর্থ্য থাকবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’
রুকনদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরাও আল্লাহর পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংগঠনের অতীত সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একসময় ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল ছিল। নেতাকর্মীদের ত্যাগ, কোরবানি ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই দেশ কোরআনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, ইনশাআল্লাহ।’ নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। একে ক্ষমতা মনে করলে ভুল হবে। আগামী মেয়র নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রমাণ দিতে হবে। তাহলেই মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকন সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতাও বাড়াতে হবে। আস্থাভাজন নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি শক্তিশালী সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে তৈরি ‘নাগরিক সেবা’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের ভাষ্য, অ্যাপটিতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।
সম্মেলনটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।
নির্বাচন পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আ. সবুর ফকির।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ও নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।