1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
আলোচনায় ছিল যেসব ওয়েব সিরিজ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

আলোচনায় ছিল যেসব ওয়েব সিরিজ

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১৬৬ 0 বার সংবাদি দেখেছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক // বিগত বছরগুলোতে বিনোদনপ্রিয় দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে থাকছে ওয়েবসিরিজ। বিশেষ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিপ্লবের পর নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজনের সিরিজগুলো বিশ্বব্যাপী দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২৪ সালেও বেশ কিছু বিদেশি ওয়েবসিরিজ ছিল আলোচনায়। দেখে নিন কোন কোন সিরিজ দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে এবার!

১. ইন্ডাস্ট্রি

গল্পের কার্যত অস্পষ্ট চরিত্রগুলোকে একেবারে সীমানায় ঠেলে দিয়েছে এই সিরিজের তৃতীয় সিজন। যৌন নির্যাতন এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ একাধিক সময়োপযোগী বিষয় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ইয়াসমিন ও রবার্টের চরিত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন অভিনেতী মারিসা আবেলা এবং অভিনেতা হ্যারি লটে।

তৃতীয় সিজনে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলেন অভিনেত্রী কিট হ্যারিংটন। তাকে একজন মনোমুগ্ধকারী অভিজাত নারীর চরিত্রে দেখেছেন দর্শকরা যিনি একটি গ্রিন স্টার্টআপ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই চরিত্রের উপস্থিতি ইয়াসমিন এবং রবার্ট দুজনকেই অস্থির করে তোলে।

একটি চরিত্রের মৃত্যু এবং চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের নতুন মোড়ের কারণে শেষ এপিসোডটিকে সিরিজের সমাপ্তি বলে মনে হতে পারে। তবে না, এত দ্রুতও শেষ হচ্ছে না ‘ইন্ডাস্ট্রি।’ আরও একটি সিজনের কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাক্স এবং যুক্তরাজ্যে বিবিসি আইপ্লেয়ারে দেখা যাবে এই সিরিজ।

২. আ ম্যান অন দ্য ইনসাইড

‘আ ম্যান অন দ্য ইনসাইড’ এই তালিকায় থাকা সিরিজগুলোর মধ্যে হয়ত সবচেয়ে ‘হাল্কা চালের’ শো। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে এটা অন্যগুলোর তুলনায় কোনও অংশে কম শক্তিশালী। ‘দ্য গুড প্লেস’-এর স্রষ্টা মাইকেল শুর তার সর্বশেষ কৌতুকধর্মী সিরিজের জন্য তারকা টেড ড্যানসনের সঙ্গে আরও একবার হাত মিলিয়েছেন।

চার্লস নামক একজন অবসরপ্রাপ্ত স্থপতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন মি. ড্যানসন। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, শেষের দিকে আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত স্ত্রীকে হারিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষতির সঙ্গে লড়াই করছেন চার্লস। সেই সময় এক বেসরকারি গোয়েন্দা তাকে একটি কেয়ার হোমে বসবাসকারী এক প্রবীণ নারীর গয়না চুরির কেসের তদন্তের জন্য নিযুক্ত করেন।

কেয়ার হোমের আবাসিকের ছদ্মবেশ নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে জীবনের একটা নতুন মানে খুঁজে পান তিনি, একইসঙ্গে বন্ধুও।

এই সিরিজ দর্শকদের মনোরঞ্জন ছাড়াও আরো একটা কাজ করে বৈকি। আমাদের এই বিশ্বে যেখানে সকলেই তারুণ্যের আবেশে মজে থাকতে চায়, সেখানে ‘প্রবীণ একজন আন্ডারকভার ব্যক্তির’ (চার্লসের) সাফল্য সমস্ত প্রযোজক এবং নির্বাহীদের মনে করিয়ে দেবে যে প্রবীণ তারকাদের অভিনীত সিরিজ দেখার খিদে আজও রয়েছে।

নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে এই সিরিজ।

৩. ব্ল্যাক ডাভস

দর্শকদের বিনোদনের জন্য ‘স্পাই’ শোয়ের অভাব নেই। কিন্তু অভিনেত্রী কিরা নাইটলি ও অভিনেতা বেন হুইশোর যা করেছেন তা অনেকের পক্ষেই হয়তো সম্ভব নয়। গল্প অনুযায়ী, হেলেন (কিরা নাইটলি) ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর স্ত্রী। তবে হেলেন আসলে একজন গুপ্তচর। এক দশক ধরে ‘ব্ল্যাক ডাভস’ নামে একটি ভাড়াটে সংস্থার হয়ে তারই স্বামীর ওপর নজর রাখছেন।

হেলেনের প্রেমিককে খুন করা হলে তার পুরানো সহকর্মী স্যামকে (বেঙ হুইশো) ডেকে আনা হয় তাকে (হেলেনকে) রক্ষা করার জন্য। শ্যাম ও হেলেন কীভাবে বন্ধু হয়েছিলেন তার নেপথ্যের মর্মস্পর্শী গল্পের সঙ্গে বর্তমানের ঘটনাগুলোকে বুনে তৈরি করা হয়েছে চিত্রনাট্য।

এই বুনোট এতটাই পোক্ত যে গল্প থেকে এক মুহূর্তের জন্যও ফোকাস সরে না। মনে হয় প্রতি পদে একজন ঘাতক লুকিয়ে রয়েছে। শুধু সাসপেন্স নয়, প্রেম, আনুগত্য, নকল পরিচয় ও বৈশ্বিক রাজনীতির ছোঁয়াও রয়েছে ব্ল্যাক ডোভসে।

নেটফ্লিক্সে এই সিরিজটি দেখা যাবে।

৪. কলিন ফ্রম অ্যাকাউন্টস

এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর এই অস্ট্রেলিয়ান রম-কম (রোম্যান্টিক কমেডি) ‘সেরা’র তালিকায় এসেছে। বলা যেতে পারে আরও পোক্ত হয়েছে ‘কলিন ফ্রম অ্যাকাউন্টস’। এখানে গল্পের মজটা হলো বাস্তবতার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে যেভাবে সম্পর্কগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে শুরু করে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপস, সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ- সব পরিস্থিতিতেই বাস্তবের ছোঁয়া। একমাত্র হাস্যরসের সময়েই কেবল একটু অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে দর্শকদের।

পিকক এবং বিবিসি আইপ্লেয়ারে দেখা যেতে পারে এই অস্ট্রেলিয়ান সিরিজ।

৫. সে নাথিং

প্যাট্রিক রেডেন কিফের ২০১৮ সালে লেখা বইয়ের ওপর ভিত্তি করে এই অসাধারণ সিরিজটি নির্মিত। ‘সে নাথিং’ ১৯৭০ এর দশকের উত্তর আয়ারল্যান্ডের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার আইআরএ সদস্যদের মনের গভীরে থাকা চিন্তা-ভাবনার মধ্যে দিয়ে দর্শকদের নিয়ে যাওয়ার ‘সাহস’ দেখায়।

এই সদস্যরা সন্ত্রাস ও হত্যাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে সেটা ন্যায্য বলেও দাবি করতেন। বাস্তব ঘটনার ওপর আধারিত এই সিরিজের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ডলোরস প্রাইস। তিনি ও তার বোন মেরিয়ান লন্ডনের গাড়ি বোমা হামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন।

এই সিরিজে অভিনেতারা আবেগের সঙ্গে প্রতিটি চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

হুলু এবং ডিজনি প্লাসে দেখা যাবে এই সিরিজ।

৬. স্লো হর্সেস

‘অ্যাপল’ চলতি বছরেও বিনোদন জগতের সামনের সারিতে থাকা তারকাদের নিয়ে গ্ল্যামারাস শোতে প্রচুর অর্থ ঢালার প্রবণতাকে অব্যাহত রেখেছে। সেটা যে খুব সাড়া ফেলতে পেরেছে তেমন নয়। তবে ওই চ্যানেলের সেরা সিরিজ হিসেবে উঠে এসেছে এই ব্রিটিশ গুপ্তচরের কাহিনী। মিক হেরনের লেখা বইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিরিজের গল্প এমন একদল ব্যক্তিকে ঘিরে যারা এমআই-৫ হিসেবে ‘ব্যর্থদের’ তালিকায় রয়েছেন।

সিরিজের চতুর্থ সিজন মুক্তি পেয়েছে। কৌতুকরস ও অ্যাকশনের যথাযথ মিশ্রণ আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে এই সিজনকে। আরও দুটো সিজন আসার কথা রয়েছে।

অ্যাপল টিভি প্লাসে এ দেখা যেতে পারে এই সিরিজ।

৭. রাইভালস

কাল্পনিক ইংলিশ কাউন্টি রুথশায়ারের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠে ‘রাইভালস’ এর কাহিনী। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত জিলি কুপারের উপন্যাস এই গল্পের মূল ভিত। সিরিজটি চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠার কারণ অভিনয়। অভিনেতারা আশির দশকের অতিরঞ্জিত চরিত্রগুলোকে নিজস্ব মহিমায় মূর্ত করে তুলেছেন। অভিনেতা ডেভিড টেন্যান্ট একজন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মালিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। আইডান টার্নারকে দেখা গিয়েছে এমন এক টিভি উপস্থাপক হিসেবে যিনি প্রচুর টাকা বেতন পান বটে কিন্তু একেবারেই সন্তুষ্ট নন। অ্যালেক্স হ্যাসেল মার্গারেট থ্যাচার-যুগের এমন এক ক্রীড়ামন্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন যার সঙ্গে একাধিক নারীর সম্পর্ক রয়েছে।

প্রেম, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক, যৌনতায় মোড়া এই সিরিজ। হুলু এবং ডিজনি প্লাস প্ল্যাটফর্মে এই সিরিজ দেখতে পারেন।

৮. দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকল

১৯৭১-এ প্রকাশিত ফ্রেডরিক ফোরসিথের উপন্যাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিরিজ দশটি এপিসোডে বিভক্ত। অভিনেতা এডি রেডমেইন একজন হিটম্যান বা ভাড়াটে খুনির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দ্য জ্যাকলকে একজন রহস্যময় ব্যক্তি হিসাবে নিপুণতার সঙ্গে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

একজন কোমল স্বভাবের আপাতদৃষ্টিতে পারিবারকেন্দ্রিক মানুষ থেকে ঠান্ডা রক্তের হত্যাকারী হয়ে ওঠা পারদর্শিতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন এডি রেডমেইন। চরিত্রের খাতিরে তাকে একাধিক ছদ্মবেশ ধারণ করতে হয়েছে।

স্প্যানিশ অভিনেত্রী উরসুলা কর্বেরো জ্যাকলের সন্দেহপ্রবণ ও দ্বান্দ্বিক স্ত্রীর চরিত্রে যথাযথ। রোনান বেনেট (যিনি নেটফ্লিক্সের টপ বয় সিরিজের নেপথ্যে রয়েছেন) এই সিরিজটিকে একটি স্বতন্ত্র বন্ড মুভির অনুভূতি দিয়েছেন যেখানে জ্যাজি থিম টিউন থেকে শুরু করে দক্ষতার সঙ্গে চিত্রায়িত অ্যাকশনের দৃশ্য রয়েছে।

‘পিকক’ এবং ‘নাও’ প্ল্যাটফর্মে দেখা যেতে পারে এই সিরিজ।

৯. দ্য ডিপ্লোম্যাট

তীক্ষ্ণ লেখনী সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দক্ষতার সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতি আর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পকে মেলানো হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে একের পর এক টুইস্ট যা দর্শকদের অবাক করতে বাধ্য। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ‘অনাগ্রহী’ মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেট ওয়াইলারকে (কেরি রাসেল) যে কোনো কক্ষে সবচেয়ে স্মার্ট ব্যক্তি বলে মনে হলেও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট জিনিস বিচার করতে তার ভুল হয়েছিল। যেমন কে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজে বোমা ফেলেছে, তার নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কতখানি বা তিনি স্বামী (যিনি প্রায় ছেড়েই চলে গিয়েছিলেন) হ্যাল (রুফাস সিওয়েল)-এর ওপর কতটা নির্ভরশীল।

গল্পে বর্ণিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রটি ‘লঘু’ হলেও বিস্ফোরক, কারণ কেট জানতে পেরেছেন ওই বোমা হামলার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক খেলোয়াড়রা জড়িত।

দর্শকদের জন্য সুখবর হলো শিগগিরই ডিপ্লোম্যাটের তৃতীয় মৌসুম আসতে চলেছে। এখানে সামনে রাজনীতি কোনদিকে মোড় নেয় এখন সেটাই দেখার।

দর্শকরা নেটফ্লিক্সে উপভোগ করতে পারেন এই সিরিজ।

১০. থ্রি বডি প্রব্লেম

‘গেম অফ থ্রোনসের’ স্রষ্টা ডেভিড বেনিওফ এবং ডিবি ওয়েইসের পরবর্তী প্রকল্প হিসেবে ‘থ্রি বডি প্রব্লেম’ নিয়ে বেশ আলোচনা দেখা গিয়েছিল।

চীনা উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি থ্রি বডি প্রব্লেম-এর গল্প একদল বিজ্ঞানী বন্ধুদের নিয়ে। এটি এমন একটা সময়ের ছবি আঁকে যখন এই বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করছিলেন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মহত্যার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে তার নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে।

গল্পে চীনা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফ্ল্যাশব্যাক থেকে শুরু করে রহস্যময় ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেম-সহ একাধিক উপাদান রয়েছে।

এই গল্প মূলত মনোরঞ্জনমূলক হলেও তা সময়োপযোগী একটা প্রশ্নের ওপর আলোকপাত করে। আর সেই প্রশ্ন হলো–– যদি আমরা জানতে পারি যে মানব জাতি ধ্বংস হতে চলেছে (কিন্তু তা আগামী ৪০০ বছরে হবে না)- তাহলে আমরা কী করব?

নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে থ্রি বডি প্রব্লেম।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews