1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
কুয়াকাটাকে পর্যটনের বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরার উদ্যোগ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

কুয়াকাটাকে পর্যটনের বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরার উদ্যোগ

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা আর দিগন্তজোড়া সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য। প্রকৃতির এমন অনন্য উপহার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। সেই সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’। সৈকতজুড়ে উৎসবের আমেজ, ঘুড়ির রঙিন উড়াল, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিচ ফুটবল, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাগরকন্যা।

শুধু উৎসব আয়োজন নয়, কুয়াকাটাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রত্যাশাও উঠে এসেছে কার্নিভাল ঘিরে আয়োজিত আলোচনা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে কুয়াকাটা হয়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ডিসি পার্ক এলাকায় বিচ ফুটবলের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। বিকেলে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রথম দিনের আয়োজনে আটটি দলের অংশগ্রহণে চারটি বিচ ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। পরে লেম্বুরবনে ঘুড়ি উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন অতিথিরা। বিকেলে সৈকতে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগের মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো পর্যটন এলাকায়।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্নিভাল দীর্ঘ বিরতির পর কুয়াকাটার পর্যটনকে নতুন করে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। দুই দিনের এ আয়োজনে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী, অভিনয়শিল্পী, উপস্থাপক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অংশগ্রহণে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা ও নানা আয়োজন। আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল ৭টায় সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হবে কার্নিভাল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম।

কার্নিভাল উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে হোটেল খান প্যালেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিকল্পনাহীনভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে চায়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। কিন্তু এসব স্থানকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার ও রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সম্ভাবনাময় স্থানগুলোকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে হবে না, এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কুয়াকাটাসহ দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

কুয়াকাটার পর্যটন বিকাশে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি জানান, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে। প্রকল্পটি অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে কুয়াকাটায় পর্যটকদের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এসব যোগাযোগ অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের কুয়াকাটায় আসা আরও সহজ হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরকার মাস্টারপ্ল্যান ভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন, ব্যবসা ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়কের একনেকে অনুমোদনের বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে যোগাযোগব্যবস্থার এই প্রত্যাশিত পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।

কার্নিভাল ও টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের চিত্র দেখা গেছে। সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ঝাউবন, গঙ্গামতি, লেম্বুরবন ও শুঁটকিপল্লিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। হোটেল-মোটেলেও বেড়েছে কক্ষের চাহিদা। তবে পর্যটকদের একটি অংশ হোটেলভাড়া ও খাবারের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সাগরপাড়ের এই উৎসব কতটা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারবে, তা নির্ভর করবে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতার ওপর। তবে কুয়াকাটার সৈকতে কার্নিভালের এই আয়োজন আবারো মনে করিয়ে দিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সাগরকন্যার সৌন্দর্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।

কার্নিভালে উপস্থিতি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাশু সরকার কুট্টি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews