1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
দোয়া কি সত্যিই ভাগ্য বদলে দিতে পারে, ইসলাম যা বলে - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884
সংবাদ শিরনাম :

দোয়া কি সত্যিই ভাগ্য বদলে দিতে পারে, ইসলাম যা বলে

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে
ধর্ম ডেস্ক // আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বারবার বান্দাদের তার কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’(সুরা গাফির: ৬০)। ইসলামে দোয়া শুধু একটি প্রার্থনাই নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়াকে ইবাদতের মূল বা সারবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যদি সবকিছুই আল্লাহ আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখেন, তাহলে দোয়া কি সেই তকদির পরিবর্তন করতে পারে?

দোয়ার প্রকৃত অর্থ

দোয়া হলো নিজের অসহায়ত্ব ও প্রয়োজনের কথা একান্তভাবে আল্লাহর কাছে তুলে ধরা। এটি মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি সৃষ্টি করে, ঈমানকে দৃঢ় করে এবং স্রষ্টার প্রতি নির্ভরতা বাড়ায়। নবী মুহাম্মদ (সা.) সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়া করতে পছন্দ করতেন। তার নিয়মিত পড়া দোয়াগুলোর একটি ছিল- ‘হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’(সহিহ বুখারি: ৬৩৮৯)

দোয়া ও তকদিরের সম্পর্ক

একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছু তকদির পরিবর্তন করতে পারে না।’ (সুনানে তিরমিজি: ২১৩৯)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইসলামি গবেষকরা বলেন, এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহর জ্ঞান বা সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। বরং আল্লাহ পূর্ব থেকেই জানেন, কোন বান্দা কখন দোয়া করবে এবং সেই দোয়ার কারণে তিনি তার বিপদ দূর করবেন। অর্থাৎ দোয়া করা এবং তার ফল লাভ করা উভয়ই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাখ্যা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তার ফাতহুল বারি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আলেমরা আরও বলেন, অনেক সময় দোয়ার কারণে নির্ধারিত কোনো বড় বিপদ পুরোপুরি দূর না হলেও তার তীব্রতা কমে যায়। ফলে মানুষ কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও সহজে ধৈর্য ধারণ করতে পারে। তাই তকদিরের অজুহাত দেখিয়ে দোয়া থেকে বিরত থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং দোয়াও আল্লাহর নির্ধারিত ব্যবস্থারই একটি অংশ।

দোয়া কবুল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

দোয়া কবুলের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। প্রথমত, দোয়া হতে হবে একনিষ্ঠতার সঙ্গে। কেবল আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করতে হবে।দ্বিতীয়ত, আল্লাহ অবশ্যই দোয়া কবুল করবেন এমন দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ উদাসীন ও অমনোযোগী হৃদয়ের দোয়া কবুল করেন না।’(সুনানে তিরমিজি: ৩৪৭৯)

তৃতীয়ত, দোয়ার ফল পেতে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। অল্প সময়ের মধ্যে ফল না পেলেও হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে দোয়া চালিয়ে যেতে হবে।

যেসব কারণে দোয়া গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়

ইসলামে হারাম উপার্জনকে দোয়া কবুল না হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম উপার্জন থেকে আসে, তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

এ ছাড়া আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, গুনাহে লিপ্ত থাকা এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় অটল থেকে দোয়া করা এসবও দোয়া গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধক হতে পারে।

দোয়া কখনোই বৃথা যায় না

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, কোনো আন্তরিক দোয়া কখনোই নিরর্থক হয় না। আল্লাহ চাইলে দুনিয়াতেই বান্দার প্রার্থনা পূরণ করেন, অথবা সেই দোয়ার বিনিময়ে কোনো বিপদ দূর করে দেন। আর যদি তাও না হয়, তবে আখিরাতে এর সর্বোত্তম প্রতিদান সংরক্ষণ করে রাখেন। তাই মুমিনের জীবনে দোয়া একটি শক্তিশালী ইবাদত ও আশার আলো। যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, ধৈর্য ধারণ করা এবং তার রহমতের ওপর ভরসা রাখাই একজন বিশ্বাসীর প্রকৃত পরিচয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews