
নিউজ ডেস্ক।।
বরিশালের উজিরপুরে উপজেলার মিঠু নেশা খেতে খেতে এক সময় নেশাই মিঠুকে খেয়ে ফেলে। টাকা না থাকলে পাগলের মত হয়ে যায়। স্ত্রী কিংবা নিজের জন্মদাতা পিতাকেও নেশার টাকার জন্য মারধর করে মিঠু। যথাসময়ে টাকা জোগার করে মাদক সংগ্রহ করতে না পারলে পাগলপাড়া হয়ে যায় মিঠু। এমনই ঘটনা ঘটেছে এবার তার হাসপাতালে বসেও। সম্প্রতি পুলিশ মিঠুকে গ্রেফতার করতে গিয়ে মারধর করেছে এমন অভিযোগ এনে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয় মিঠু। পুলিশের বিরূদ্ধে নানা কল্প কাহিনী বানিয়ে মিডিয়া কভারেজ নিতে থাকে। মুখরোচক সংবাদ প্রচারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এদিকে কয়েকদিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি থাকার ফলে মিঠু যথা সময়ে নেশা গ্রহণ করতে না পেরে পাগলামি শুরু করে। নানা অস্বাভাকি অঙ্গভঙ্গি করলে স্বজনরা দিগ্বদিক হয়ে যায়। অবশেষে এটিকে পুলিশের নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারানোর গল্পে পরিনত করা হয়। অথচ এলাকাবাসী ও মিঠুর পূর্ব পরিচিত জনরা বলছেন ভিন্ন কথা।
শিকারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাঝি বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি অনেক কথা বলতে পারিনা। স্থানীয়ভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করলে জানা যাবে আসল রহস্য।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে চাই, সে ক্ষেত্রে মাদক নির্মূল করতে আমি পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
উল্লেখ্য উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মুন্ডপাশা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে মিঠু মিয়া (২৮) ও কাশেম বেপারীর ছেলে জাহাঙ্গীর বেপারী (৪৫) মোঃ রুবেল হোসেন মিলে গত ৩০ মে রাত ৯ টার দিকে ইজিবাইকের মধ্যে লুডু খেলছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উজিরপুর মডেল থানার এএসআই অন্তর আহম্মেদ তাদের দেহে তল্লাশি চালিয়ে দুইটি গাজা ভর্তি বিড়ি পান। এরপর পুলিশের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যপারে উজিরপুর মডেল থানার এএসআই অন্তর আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং সন্দেহ হলে তাদের দেহে তল্লাশি চালাই। এরমধ্যে মিঠু মিয়ার পকেটে ২টি গাঁজা ভর্তি বিড়ি পাওয়া যায়। ক্ষিপ্ত হয়ে মিঠু মিয়া আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে সকলকে নিয়ে পালিয়ে যায়। মাদক সেবনের বিষয়টি এলাকায় চাউর হলে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি কূ-চক্রীমহল ঘটনার দুই দিন পরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে মিঠুকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মিঠুর মা তাসলিমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে পুলিশ মারধর করেছে, তাই তাকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে, তবে মাদকের বিষয় পুলিশ কোন আপোষ করবে না।