
উপজেলার ছয়বাড়িয়া গ্রামের দবির মন্ডলের ছেলে জাহাঙ্গির আলম চঞ্চলের দাবি, তার স্ত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের আনন্দ সরকারের ছেলে শ্রী সজল সরকার আকাশের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বছর আগে আকাশ বিদেশ চলে যায়। সম্প্রতি তিনি গ্রামে এসেছেন। গ্রামে আসার পর আকাশ তার স্ত্রীর সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেন। গত রোববার রাতে তিনি বাড়ি ফিরে দেখেন, তার স্ত্রী ঘরে নাই। পরে ছোট ভাইসহ খুঁজতে গিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে আকাশের সঙ্গে তার স্ত্রীকে দেখতে পান।
তিনি আরও দাবি করেন, পরে বিষয়টি গ্রামের মানুষরা জানতে পারলে তার স্ত্রী ও আকাশকে আটক করে গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করেন। কিছু সময় পর গ্রামের মাতব্বর নবীর উদ্দিন, শহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে বিচার করে দেওয়ার কথা বলে গোপনে তার স্ত্রী ও আকাশকে গ্রাম থেকে পালিয়ে যেতে দেন। এরপর তিনি ওই রাতেই অভিযোগ করতে থানায় গেলে পরকীয়া প্রেমের বিচারের কোনো ধারা নেই জানিয়ে অভিযোগ গ্রহণ করা হয় নাই। পরদিন সোমবার চঞ্চল থানায় গেলে থানার ওসি তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। ঘটনার পর থেকে গ্রামের মাতব্বরদের কাছে গেলে আজ বিচার করে দেবেন, কাল বিচার করে দেবে বলে হয়রানি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের মাতব্বর নবীর উদ্দিন, শহিদুল ইসলামসহ কতিপয় ব্যক্তিরা পরকীয়া প্রেমের এই ঘটনার বিষয়টি সকল কিছু ম্যানেজ করে মিটমাট করে দেওয়ার নামে অভিযুক্ত আকাশের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া ঘটনার দিন রাতে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি ওই গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার কথা বলে আকাশের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৩হাজার টাকা নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়টি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিষয় পোস্ট করার কারণে বর্তমানে বিষয়টি শীর্ষ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মুসলমান ও হিন্দু ধর্মের এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ফায়দা তোলার সুযোগ গ্রহণ করছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
তবে অভিযুক্ত আকাশের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সালিসে থাকা গ্রামের মাতব্বর নবীর উদ্দিন জানান, পুরো গ্রামের বাসিন্দারা যা চেয়েছেন, তাই করা হয়েছে। তারা চেষ্টা করেছেন গ্রামে বসেই বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ‘পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে কোনো মামলা গ্রহণের সুযোগ না থাকার কারণে ভুক্তভোগী চঞ্চলকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেছি। এছাড়া চঞ্চল চাইলে তার স্ত্রী কোথায় আছে, তাকে খুঁজে বের করার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।’