ইটেরপুল থেকে পাথুরিয়ারপাড় পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল খাল একসময় মাদারীপুরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল। ছোট-বড় নৌযানে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষির নানা কাজে খালটি ব্যবহৃত হতো। পরে দখল, ভরাট, পলি ও ময়লা-আবর্জনায় খালের বিভিন্ন অংশ সংকুচিত হয়ে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। একসময় শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথটি পরিণত হয় জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধের কারণেও।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুন মাদারীপুর পৌরসভার উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইটেরপুল এলাকায় বরিশাল খালের পুনঃখনন শুরু হয়েছিল। এবার নতুন করে পুনঃখননের মাধ্যমে খালটির পানিপ্রবাহ আরও কার্যকরভাবে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ‘মাদারীপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় খালগুলোকে সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু খনন করলেই হবে না, খাল যাতে আবার দখল ও দূষণের কবলে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পৌরসভার প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘মাদারীপুর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বরিশাল খালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটির পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এটি সহায়ক হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি সচল হলে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শহরের পরিবেশও উন্নত হবে। তবে খননের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং খালের জায়গা দখল ও ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রবীণদের কাছে বরিশাল খাল শুধু একটি জলধারা নয়, মাদারীপুরের অতীতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি স্মৃতি। পুনঃখননের মাধ্যমে সেই হারানো জলপথের স্বাভাবিক স্রোত ও চেনা রূপ ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।








