
বরিশালের বাকেরগঞ্জে সুমন সিকদার (৩৮) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সুমন সিকদার কালেরকাঠী গ্রামের মৃত আদম আলী সিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা রফিক হাওলাদার পুত্র রিগ্যান হাওলাদার (৩৫) ও মন্নান তালুকদার ওরফে মনা (৬৫), বাবুল সিকদারের পুত্র সুমন সিকদারকে (৩০) অভিযুক্ত করেছেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে স্থানীয় যুবদল নেতা রিগ্যান হাওলাদারের সঙ্গে সুমনের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে রিগ্যান, মন্নান তালুকদার ও তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনের মাথা, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপান। একপর্যায়ে সুমনকে মৃত ভেবে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে রেখে তারা চলে যান।
খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে সুমনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সত্যজিৎ দত্ত তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে তানভীর সিকদার ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মন্নান তালুকদার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। কিছুদিন আগে সুমনের স্ত্রী মনি বেগমের সঙ্গে মন্নানের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে সুমনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মন্নান তালুকদার, রিগ্যান হাওলাদার ও সুমন সিকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।