
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।।
পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া আসনের দ্বাদশ সংসদ সদস্য নির্বাচনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি,এম কাদেরের উপদেষ্টা মাশরেকুল আজম রবিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে প্যাট্টিয়ট ইকো এ্যাপারেল লিমিটেডের এম.ডি’র স্বাক্ষর জাল করে ৩৭ লক্ষ ৮১৫ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাতের অভিযোগে টুঙ্গি পূর্ব থানায় গত রোববার মামলা হয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী মাশরেকুল আজম রবি (৫২) উপজেলার মিরুখালী গ্রামের আ: গফ্ফারের পুত্র। মামলা সূত্রে জানা যায়, প্যাট্টিয়ট ইকো এ্যাপারেল লি: এর জন্য সাব-কন্ট্রাক অর্ডার হিসেবে মজুমদার গার্মেন্টেস এর পক্ষে মাশরেকুল আজম রবি ওই কোম্পানী থেকে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ১৯ পিস গার্মেন্টেস পণ্য ১ কোটি ৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮’শ টাকা মূল্যে কাজ নেয়। অত:পর কাজ শেষে মাশরেকুল আজম রবি’র কাছ থেকে প্যাট্টিয়ট ইকো লি: হিসাব বিভাগ ১ কোটি ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ১৫ টাকা জমা গ্রহণ করে। অবশিষ্ট ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৪’শ টাকা মজুমদার গার্মেন্টেস এর মিডিয়াম্যান মামলার ২নং আসামী মো: আ: লতীফ (৪৬) এর কাছে চাইলে সে জানায় প্যাট্টিয়ট ইকো লি: এর সিনিয়র প্লানিং ম্যানেজার ৩নং আসামী জাহিদ হাসান খান এর নিকট অবশিষ্ট টাকাগুলো প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে উক্ত বকেয়া টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় টাকা নেয়নি। এরপর থেকে প্লানিং ম্যানেজার কোম্পানীতে আসা বন্ধ করে দেয়। এদিকে মামলার আসামীদ্বয় প্যাট্টিয়ট কোম্পানীতে আসলে টাকা ফেরত চাইলে টাকা দিবে না বলে জানায়। অপরদিকে আসামীদ্বয় পরষ্পর যোগসাজসে প্যাট্টিয়ট ইকো এ্যাপারেল লি: এর এমপি মো: ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে ৩৭ লক্ষ ৮’শ ১৫ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় এমডি বাদী হয়ে মাশরেকুল আজম রবি, আ: লতীফ ও প্যাট্টিয়ট ইকো এ্যাপারেল লি: এর সিনিয়র প্লানিং ম্যানেজার এর বিরুদ্ধে টুঙ্গি পূর্ব থানায় মামলা করেছে। অভিযুক্ত মাশরেকুল আজম রবি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূলত আমি ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে ৬২ লক্ষ বেতনের বকেয়া টাকা পাবো। অপরদিকে টঙ্গি পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে ইতোমধ্যেই চার্জশীট পেরণ করা হয়েছে। এ বিষয় প্যাট্টিয়ট ইকো এ্যাপারেল লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ইকবাল হোসেন জানান, আমাদের কোম্পানীতে চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে ফ্যাক্টরী পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন মাশরেকুল আজম রবি। এসুযোগে তিনি ফ্যাক্টরীর অনেক ক্ষতিসাধন করেছেন এবং আমাদের এক কর্মকর্তার যোগসাজশে মাশরেকুল আজম রবিসহ তিন ব্যক্তি ৩৭ লক্ষ ৮’শ ১৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যে কারণে ইতোমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলায় চার্জশীট দেয়া হয়েছে।