
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা চৌধুরী (৪৩) ও প্রাইভেটকারের চালক সোহেল। নিহত মজিবুর রহমান, শামীমা আক্তার ও সাবিহা চৌধুরী একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় প্রাইভেটকারের চালক সোহেলকে গাড়ির ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাইভেটকারে থাকা অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিউ বলেশ্বর নামের যাত্রীবাহী বাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে প্রাইভেটকারটি গজারিয়ার মায়ামি রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় যাচ্ছিল। জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে প্রাইভেটকারটির সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর খবরে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনাস্থলের দৃশ্যও ছিল হৃদয়বিদারক।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত চারজনের মধ্যে প্রাইভেটকারের চালকসহ তিনজন একই পরিবারের সদস্য। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।