মেহেন্দিগঞ্জের অদম্য কিশোরী শ্রাবন্তী কীর্তনীয়ার চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিকে বরগুনা জেলাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’ ফুটবলে বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল জেলা দল। এই জয়ের রূপকার মেহেন্দিগঞ্জের কিশোরী শ্রাবন্তী কীর্তনীয়া।
ফাইনালে প্রতিপক্ষের জালে একাই ৩ বার বল পাঠিয়েছেন শ্রাবন্তী। কেবল ফাইনালই নয়, সেমিফাইনালেও পটুয়াখালীর বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ফাইনালে তোলার মূল কারিগর ছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
খেলা শুরুর পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বরিশাল। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শ্রাবন্তীর পায়ের জাদুতে কুপোকাত হয় বরগুনার রক্ষণভাগ। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে বরগুনার গোলপোস্ট তছনছ করে দেন মেহেন্দিগঞ্জ আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী। তার গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি প্রতিপক্ষ।
অথচ মাঠের এই রূপকথার পেছনের গল্পটা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন শ্রাবন্তী। বাবা বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া পেশায় একজন দর্জি এবং মা বিথী রানী দাস গৃহিণী। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে কোনও পেশাদার বা একাডেমিক কোচিংয়ের সুযোগ পায়নি শ্রাবন্তী। প্রতিভা ও তীব্র ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে সে আজ মাঠ মাতাচ্ছে।
শ্রাবন্তীর ফুটবলের অনুপ্রেরণা দেশীয় ফুটবলের গতি তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা এবং বিশ্বফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। অভাবের সংসার আর প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনার অভাব সত্ত্বেও শ্রাবন্তীর চোখজুড়ে এখন অনেক বড় স্বপ্ন। তার মূল লক্ষ্য, একদিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানো।








