1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ 0 বার সংবাদি দেখেছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক // ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি মৌসুমে বন্যাজনিত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে।

রাজ্যের একাধিক জেলায় নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

দুর্যোগ প্রতিবেদন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (ডিআরআইএমএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নতুন করে ছয়জনের মৃত্যুর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ বন্যার কারণে। এর মধ্যে বিশ্বনাথ জেলায় দুজন, শিবসাগরে দুজন এবং গোলাঘাটে একজন মারা গেছেন। এছাড়া মরিগাঁও জেলার মায়ং রাজস্ব চক্র এলাকায় নগর বন্যায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। উদালগুড়ি জেলায় একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নুমালীগড়ে ধানসিরি (দক্ষিণ) নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর ফলে গোলাঘাট, লাখিমপুর, চরাইদেও, শিবসাগর, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, কামরূপ (মেট্রো), জোরহাট, সোনিতপুর, তিনসুকিয়া, নগাঁও, দাররাং, কারবি আংলং এবং উদালগুড়িসহ মোট ১৪ জেলা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

বর্তমান বন্যায় ৫৬৩টি গ্রামের ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলা, যেখানে ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এরপর রয়েছে গোলাঘাট ও জোরহাট।

ডিআরআইএমএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় রাজ্যের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বনাথ জেলার ব্রহ্মাজানে পাঁচটি এবং দাররাং জেলার মঙ্গলদৈয়ে দুটি বড় বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া চরাইদেও জেলার চোলাপাথারে একটি স্টিলের সেতু এবং উদালগুড়ির তাংলায় একটি ফুটব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পানিতে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫১ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাণিসম্পদেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ৩৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি পশু, যার বেশিরভাগই শিবসাগর জেলায়, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

এদিকে, গুয়াহাটি শহরসহ কয়েকটি নগর এলাকাও তীব্র জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। কামরূপ, কামরূপ (মেট্রো), মরিগাঁও এবং জোরহাট জেলায় নগর বন্যায় অন্তত ৭৩৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কামরূপ (মেট্রো) জেলায় রাজ্য ও জেলা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা নৌকা ব্যবহার করে সাতগাঁও ও হাতিগাঁওসহ বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা থেকে অন্তত ৮০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। গুয়াহাটির জুরিপার ও অনিল নগর এলাকায় এখনো আংশিক জলাবদ্ধতা রয়েছে, যা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত করছে।

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় আসাম সরকার ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। বর্তমানে ৪৫টি ত্রাণশিবিরে ১২ হাজার ৩৫৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ৫৯টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩২ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, লবণ এবং গবাদিপশুর খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উজানের জলাধার এলাকায় আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews