1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
ম্যানগ্রোভ প্রকল্পের চার শতাধিক গাছ ধ্বংসের অভিযোগ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

ম্যানগ্রোভ প্রকল্পের চার শতাধিক গাছ ধ্বংসের অভিযোগ

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমি দখলের উদ্দেশ্যে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ প্রকল্পের চার শতাধিক গাছ ধ্বংস ও মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বন বিভাগ।

গত শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবিশ্বাস ম্যানগ্রোভ বাগানে এ ঘটনা ঘটে। জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে শাহীন হাওলাদার, মো. ফারুক, আজাদ তালুকদার ও মো. রহিমকে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চর আগস্তি বিটের আওতায় প্রায় ৭৫ হেক্টর জমিতে ২০১৫ সালে ম্যানগ্রোভ প্রকল্পের আওতায় বাগানটি সৃজন করা হয়। শনিবার বিকেলে স্থানীয় শাহীন হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪-৫ জন ব্যক্তি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ওই এলাকায় তরমুজ চাষের উপযোগী করতে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বাধা দেন। বন বিভাগের দাবি, এর আগেই এক্সক্যাভেটর দিয়ে ম্যানগ্রোভ বাগানের চার শতাধিক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

গলাচিপা বিট কর্মকর্তা আবদুল বারেক বলেন, ওই জায়গাটি সরকারি। সরকারি বনে মাটি কাটা ও গাছ ধ্বংসের সময় আমি বাধা দিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছি।

তবে বন বিভাগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শাহীন হাওলাদার। তিনি দাবি করেন, ওই চর ২০০৪-০৫ ও ২০০৫-০৬ অর্থবছরে গলাচিপা ভূমি অফিস থেকে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বন বিভাগ কোনো গাছ লাগায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

শাহীন হাওলাদার বলেন, আমরা যে জায়গায় গিয়েছি, সেটি সরকার ২০০৫-০৬ সালে আমাদের বন্দোবস্ত দিয়েছে। সেই সময় থেকেই বন বিভাগের সঙ্গে আমাদের মামলা ও বিভিন্ন বিরোধ চলছে।

তার দাবি, তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক একটি টিম গঠন করে বন বিভাগ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শাহীন বলেন, ওই নির্দেশ অনুযায়ী পটুয়াখালী জেলা বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তা, স্থানীয় বিট কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার ও চেইনম্যানের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, শতাধিক বন্দোবস্তপ্রাপ্ত গৃহহীন ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ২০০৮ সালের ১১ জুলাই জমির সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশন করা হয়। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা ভূমি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ডিমারকেশন করা জায়গা থেকে প্রায় এক হাজার ফুট বাইরে স্কেভেটর দিয়ে বাউন্ডারি তৈরি করে পানি প্রবেশের ব্যবস্থা বন্ধ করে তরমুজ চাষের উপযোগী করার কাজ চলছিল। সেখানে থাকা প্রাকৃতিক আগাছা, লতাপাতা ও গাছপালা পরিষ্কার করা হচ্ছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাধা দেওয়ার পর তিনি কাজ বন্ধ করে দেন।

শাহীন হাওলাদার বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। যদি প্রমাণ হয় যে আমি বন বিভাগের বরাদ্দকৃত জমিতে প্রবেশ করেছি বা তাদের কোনো গাছ কেটেছি, তাহলে বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইনে যে শাস্তি রয়েছে, তা আমি মাথা পেতে নেব।

গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, বন কেটে তরমুজ চাষের উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। আমার বিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গে কিছুটা বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ কারণে চারজনের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews