
নিজস্ব প্রতিবেদক // ভোলার লালমোহন উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় হাত-পা-মুখ বেঁধে এক যুবককে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের চর টিটিয়া ৪ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় নামধারী ৪ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভুগী রাইসুল ইসলাম তানজীরের বাবা ছরোয়ার উদ্দিন। মামলা নং- ৯।
মামলায় আসামীরা হলেন লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের কাজিরাবাদ গ্রামের মো: মোকছেদ আলম ও তার দুই ছেলে মনির ও মো: হাছান, একই গ্রামের, মো: নুর ইমলামের ছেলে মো: শরীফ ও আ: হক এর ছেলে মো: ইকবাল সহ আর অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন। মামলায় ভুক্তভুগীর বাবা ছরোয়ার উদ্দিন উল্লেখ করেন, গত ইউপি নির্বাচনে মেম্বর পদে আমার শ্যালক মো: ইউসুফ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দী হিসেবে পরাজিত হন মোকছেদ। তিনি সাবেক ইউপি সদস্য। দায়িত্ব পালনকালে মোকছেদ নানা অপকর্মে বিতর্কিত হন। আমার ছেলে রাইসুল ইসলাম তানজীর শ্যালক মো: ইউসুফের নির্বাচনে প্রচারণা চালায়। নির্বাচন শেষে মোকছেদ জয়লাভ করতে না পেরে আমি ও আমার ছেলের ওপর ক্ষুব্দ হয়ে পড়েন।
এর ফলে বিভিন্ন সময় আমার ছেলেকে ভয়ভীতি ও হামলার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল মোকছেদ ও তার বাহীনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২/১১/২০২৩ তারিখে গভীর রাতে হাছান, শরীফ, মনির, ইকবাল সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন মিলে আমার ছেলেকে রুমের মধ্যেই মারধর করছে। আমি ঘুমানো অবস্থায় শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙ্গে দেখতে পাই তারা আমার ছেলে রাইসুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে। এছাড়া লোহার রড দিয়া আমার ছেলেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
আমি ডাকচিৎকার দিলে আসামীরা আমাকেও এলোপাতারি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। আসামীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ও অন্ডকোষ চেপে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে। আসামী মো: মোকছেদের প্ররোচনায় সংঘবদ্ধ এ হামলা চালায় অভিযুক্তরা। ঘটোনার পর আসামীরা পালিয়ে গেলে স্বজনরা আমার ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আমিও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করি। এ ঘটনায় আসামীদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভুগী রাইসুল ইসলামের বাবা ছরোয়ার উদ্দিন।