স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও পাকা হয়নি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের গাজীর বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক। এমনকি সড়কটিতে নেই ইটের সলিংও। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়কটির অপর নাম হয় দুর্ভোগের পথ।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৬০ সালে আন্ধারমানিক নদীর তীরে বৃহত্তর ৪ নম্বর মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। ইউনিয়নের নাম যে গ্রামের নামে, সেই মিঠাগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিনেও উন্নয়নের মুখ দেখেনি। বর্ষার কয়েক মাস ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুকাদা জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দিয়ে মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, মিঠাগঞ্জ বড় জামে মসজিদ, গাজীর বাজার, বাংলা বাজারসহ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন এলাকার মানুষ। বর্ষায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান অভিভাবকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, গাজীর বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার সড়ক পাকা কিংবা ইটের সলিং করা হলে পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা বদলে যাবে। পাশের ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরের সঙ্গে মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।
মোটরসাইকেলচালক সৌরভ বলেন, সড়কটি ভালো না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। পাকা সড়ক হলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দুটোই কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও রাস্তাটিতে একটি ইটের কণাও পড়তে দেখিনি।’
সেতারা বেগম বলেন, র্ষায় সড়কে এত কাদা হয় যে ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
মরিয়ম বেগম বলেন, গর্ভবতী নারী কিংবা অসুস্থ রোগী নিয়ে বর্ষাকালে এ পথ পাড়ি দেওয়া খুবই কষ্টকর। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে উপজেলা সদরে যেতে অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়।
মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য এটি এলাকার প্রধান সড়ক। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও কৃষকরা নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করেন। সড়কটি পাকা হলে বর্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এটি একটি ইউনিয়ন সড়ক, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী সড়কের উচ্চতা, প্রস্থসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিক থাকলে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।