
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধ ।। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের জবসেন গ্রামে গাছ ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে এক ক্রেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ভুক্তভোগী মোঃ কাওছার পাইক (পিতা: জব্বার পাইক) গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় তার কানে গুরুতর জখম হয়ে সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা রফিজ পাইক (পিতা: রশিদ পাইক)-এর কাছ থেকে কিছুদিন আগে কয়েকটি গাছ ক্রয় করেন কাওছার পাইক। পরে তিনি গাছ কাটতে গেলে রফিজ পাইকের কাকা তিনটি গাছ কাটতে বাধা দেন এবং গাছগুলোর মালিকানা দাবি করেন। এসময় বিষয়টি সমাধানের জন্য রফিজ পাইকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করে বারবার কেটে দেন।
পরবর্তীতে ওই তিনটি গাছ কাটা সম্ভব না হলেও কাওছার পাইককে গাছের টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস বসানো হলেও রফিজ পাইক তা অমান্য করেন এবং টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এরই জেরে সম্প্রতি জবসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে একটি চায়ের দোকানে কাওছার পাইক রফিজ পাইকের কাছে গাছের টাকা ফেরত চাইলে হঠাৎ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় কাওছার পাইক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার কানে গুরুতর আঘাত শনাক্ত করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তার বাম কানে ৭টি সেলাই দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে আবার আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কাওছার পাইক অভিযোগ করেন, নিজের টাকায় গাছ কিনেও তিনি প্রতারণা ও হামলার শিকার হয়েছেন। হামলার ফলে তার কানে শ্রবণশক্তি কমে গেছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় কাওছার পাইক ও তার পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের এমন পরিণতির বিচার চাই। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা জানানো হবে।