1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
বরিশাল সওজে অবসরপ্রাপ্তদের দিয়েই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম! - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

বরিশাল সওজে অবসরপ্রাপ্তদের দিয়েই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম!

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৬৯ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক::

বরিশালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কার্যালয়ে অবসরে যাওয়ার পরও অন্তত পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালন, সরকারি কোয়ার্টার দখল এবং ভাড়া বকেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এক কর্মকর্তা অফিস কক্ষেই বসবাস করছেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শন ও অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা (টেকনিশিয়ান) শ্রী ওজা বাবু, অফিস সহকারী মোহাম্মদ সান্টু মিয়া, ড্রাইভার মো. হুমায়ুন কবির, টেকনিশিয়ান ফারুক হোসেন এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পিএ মোহাম্মদ মজিবুর রহমান পিআরএল শেষে অবসরে গেছেন। তবে অবসরের পরও তারা অফিসের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা যায়, অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী মোহাম্মদ সান্টু মিয়া অফিসের আলমারি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র বের করে দাপ্তরিক কাজ করছেন। এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হলে, অবসরে যাওয়ার পরও কীভাবে তিনি অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করছেন—জবাবে তিনি বলেন, “স্যার আমাকে কাজ করতে বলছেন, তাই করছি।”
পরবর্তীতে সান্টু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে অবসরে গেলেও এখনো কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করছেন। তিনি সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো ভাড়াও পরিশোধ করেননি বলেও জানা গেছে।
সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা শ্রী ওজা বাবু বলেন, “এই পদে পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় কেউ স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই অবসরের পরও কাজ করছি।”
অন্যদিকে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পিএ মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, তিনি এক মাস আগে অবসরে গেছেন। তবে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জুন মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমানে অফিসের একটি কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন।
সওজ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, প্রধান সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, অফিস ক্লার্ক এবং ল্যাবরেটরির তিনটি পদসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ১৩টি পদের মধ্যে অন্তত ছয়টি পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে অস্থায়ী বা ভাউচারভিত্তিক ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্তদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কোয়ার্টার দখলে রাখার কারণে নতুন ও কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বাসস্থান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন নিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অবসরে যাওয়ার পর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখার কিংবা দাপ্তরিক কাগজপত্র পরিচালনার নিয়ম নেই।”
অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, “জনবল সংকট থাকায় তাদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।” তবে সরকারি কোয়ার্টারের ভাড়া বকেয়া, অফিস কক্ষে বসবাসসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, “শূন্য পদ পূরণের জন্য গত ২৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।”
অফিসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ছত্রচ্ছায়াতেই অবসরে যাওয়ার পরও এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews