হাতীবান্ধায় বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দায়ের।
প্রকাশিত :
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
১৬
0 বার সংবাদি দেখেছে
এস এম আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি // লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গণেশ চন্দ্র বর্মন (৭০) নামের অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে আপন ছোট ভাই মনোরঞ্জন রায় ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ।
গত ১৭ জুন বুধবার বিকেল ৪ টায় উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের গাওচুলকা এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোতামারি ইউনিয়নের গাওচুলকা গ্রামের মৃত দীনবন্ধু বর্মনের পুত্র অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা গণেশ চন্দ্র বর্মন ঘটনার দিন বিকেলে নিজের বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে তার নিজ জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার আপন ছোট ভাই মনোরঞ্জন বর্মন (৫৮), ভাতিজা শ্রী কৌশিক চন্দ্র বর্মন (২২) এবং ভাইয়ের স্ত্রী রেখা রানী (৫০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে তার সাথে কথা কাটাকাটি করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছোট ভাই মনোরঞ্জন বর্মন তার সাথে লোকজনকে হুকুম দিলে তারা গনেশ চন্দ্রের উপর হামলা করে।
হামলাকারীরা বড় ভাই গণেশ চন্দ্র বর্মনকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে তাকে ধারালো ছোড়া দিয়ে তার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এ সময় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রেখা রানী দুই হাত দিয়ে তার গলা চিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান।
ঘটনার সময় গনেশ চন্দ্রের আত্মচিৎকার শুনে স্থানীয় হোসেন আলী, স্বপন কুমার এবং সামছুল হক সহ আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে ছোট ভাই মনোরঞ্জন ও তার লোকজন বিভিন্ন প্রকার প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় গণেশ চন্দ্র বর্মনকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বেড নম্বর ১৩।
এদিকে ছোট ভাই মনোরঞ্জন রায় বড় ভাই গনেশ চন্দ্রের উপর সমস্ত দোষা চাপিয়ে দিয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কিছু তথ্য দিয়ে গতকাল শনিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন বলে। গণেশের পরিবারের লোকজন জানান।
এ ব্যাপারে ছোট ভাই মনোরঞ্জন রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ রমজান আলীর সাথে কথা বললে, তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।