1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
লবণাক্ততায় ফলন নিয়ে শঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চান কৃষকরা - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

লবণাক্ততায় ফলন নিয়ে শঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চান কৃষকরা

  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ২১ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি, জোয়ারের প্রভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে ভোলার মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততা। দীর্ঘদিন জমিতে পানি আটকে থাকা এবং কিছু এলাকায় লবণাক্ততার প্রভাবে চলতি আমন মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।

 

শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মনপুরা ইউনিয়ন, দক্ষিণ সাকুচিয়া, উত্তর সাকুচিয়া ও হাজিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষিজমি ঘুরে দেখা যায়, নিচু এলাকার অনেক জমিতে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। কোথাও সদ্য রোপণ করা আমনের চারা পানির নিচে তলিয়ে আছে, আবার কোথাও অতিরিক্ত আর্দ্রতায় চারা হলদে হয়ে পড়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নেমে না গেলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

মনপুরা ইউনিয়নের কৃষক মো. ফারুক হোসেন বাবু বলেন, মনপুরা একটি উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা। জোয়ার-ভাটা, নদীর পানি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি কৃষিতে পড়ে। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আবার শুষ্ক মৌসুমে অনেক এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে যায়। ফলে কৃষি উৎপাদন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবুল কাশেম বলেন, বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে থাকে। পানি নামতে অনেক সময় লাগে। আবার শুষ্ক মৌসুমে জমির মাটিতে লবণাক্ততার প্রভাব দেখা দেয়। দুই দিক থেকেই আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।

 

উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এরমধ্যে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততায় ফলন কমে গেলে কৃষি করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আওসান তাওহীদ বলেন, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিচু এলাকার জন্য ব্রি ধান-৫২ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় ছোট ছোট খাল পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্লুইসগেটের কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। কাজ শেষ হলে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারাও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মনপুরার মতো উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে শুধু মৌসুমি সহায়তা যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত ও কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews