
নিউজ ডেস্ক।।
বরিশাল নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিক রোড এলাকায় সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) বসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নলকূপ স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পানি শাখা।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মরত মো. মামুন হোসেন ওই এলাকায় গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেননি তিনি ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে এলে তাঁরা বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি শাখাকে অবহিত করেন। পরে পানি শাখার সুপারভাইজার জুয়েলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে গিয়ে প্রথমে নলকূপ বসানোর কাজে বাধা দেন। পরে কিছু সময়ের জন্য মালামাল জব্দে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামাল জব্দে গড়িমসির কারণ জানতে চাইলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে নলকূপ বসানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে বিসিসির পিকআপে করে নিয়ে যায় পানি শাখার কর্মীরা।
এদিকে অভিযুক্ত মো. মামুন হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ কিংবা মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি। বরং তাঁর মাধ্যমে দুই ব্যক্তি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি শাখার সুপারভাইজার জুয়েল বলেন, ‘প্ল্যানবহির্ভূত গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে-এমন খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মালামাল জব্দ করা হয়েছে। সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো গভীর নলকূপ বসাতে দেওয়া হবে না।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নগর এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।