আহতরা হলেন- গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম ও অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক মো. শাহজালাল। তাদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবল জসিমের হাতে গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানা গেছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগের একটি দল। অভিযানে মৎস্য বিভাগের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন।
অভিযানকারী দল স্পিডবোট নিয়ে নদীতে ইলিশ শিকার করা ট্রলারগুলোর দিকে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে একটি ট্রলারকে প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করে সেটির কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রলারে থাকা জেলেরা বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান।
এসময় স্পিডবোটের চালক শাহজালালকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ কনস্টেবল জসিম এগিয়ে গেলে তাকেও বৈঠা দিয়ে আঘাত করেন জেলেরা। এতে তার হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের সদস্য সুধাংশু বলেন, ঘটনার সময় নদীতে বেশ কয়েকটি ট্রলারে ইলিশ শিকার করা হচ্ছিল। এর মধ্যে একটি ট্রলারকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে ধাওয়া করে অভিযানকারী দল। পরে ট্রলারটির কাছাকাছি পৌঁছালে জেলেরা বৈঠা দিয়ে স্পিডবোটের চালককে আঘাত করেন। চালককে রক্ষা করতে গেলে পুলিশ কনস্টেবল জসিমও হামলার শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, জেলেরা দ্রুতগতির ডাবল ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে একটি ট্রলারে ১০ থেকে ১২ জন জেলে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করছিলেন। তাদের আটক করতে গেলে অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানান তিনি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।