1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
উজিরপুরে ধামুরা খালের ওপর নান্দনিক আর্চ ব্রিজ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

উজিরপুরে ধামুরা খালের ওপর নান্দনিক আর্চ ব্রিজ

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ 0 বার সংবাদি দেখেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক // জেলার উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের ধামুরা খাল বরিশাল অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শতবর্ষী প্রাকৃতিক জলাশয়। উজিরপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পণ্যবাহী নৌকা এবং ট্রলার ধামুরা খালের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করছে। একসময় এটি অত্যন্ত খরস্রোতা খাল হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ধামুরা বাজার গণহত্যার স্মৃতিতেও এ খালের উল্লেখ আছে।

আবহমান এ খালের দুই পাশে সবুজের সমারোহ, মাঝখানে বয়ে গেছে খালের স্বচ্ছ জলের স্রোতধারা। তার ওপরে নির্মিত ধনুকের মতো বাঁক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন একটি সেতু। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো পর্যটন কেন্দ্রের নান্দনিক স্থাপনা। কিন্তু এটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ আর্চ সেতুটি এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিকেল নামলেই বদলে যায় সেতুর পরিবেশ।

স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে খালের সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা কিংবা কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো—সব মিলিয়ে ধামুরা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন উজিরপুরের মানুষের কাছে নতুন এক পরিচিতি পেয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকেই সেতুর নান্দনিক নকশাকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার সেতুর সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, যোগাযোগের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি এমন দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো একটি এলাকার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকেও নতুন মাত্রা দিতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় উজিরপুর উপজেলার সানুহার আরঅ্যান্ডএইচ-ধামুরা জিসি-জল্লা-সাতলা জিসি সড়কের ধামুরা খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ৫৫ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি আর্চ সেতুটি। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) ও আইডিএ’র অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির ব্যয় ৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা।

২০২৩ সালের ৪ মে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল কাজ শেষ করা হয়। এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস এমএই-শামস-উপকূল (জেভি) নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করে। পরে উদ্বোধনের মাধ্যমে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

আর্চ সেতুটি চালু হওয়ায় সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের মতো খাল পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না স্থানীয়দের। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় পুরোনো সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সাতলা-বরিশাল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতো। ধামুরা খাল পারাপার ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির বিষয়। নতুন সেতুটি নির্মাণের ফলে সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন যোগাযোগের পাশাপাশি সেতুটি এলাকার সৌন্দর্যেরও বিশেষ অংশ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটন বাসস’কে বলেন, ‘সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে আগে যাতায়াতে মানুষের অনেক কষ্ট হতো। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। এখন নতুন সেতু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ আর নেই। সবচেয়ে ভালো লাগছে, সেতুটি দেখতে খুব সুন্দর। এখন এটি দেখতে অন্যান্য এলাকার মানুষও আসছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আর্চ সেতুটি নির্মাণের পর এলাকার পরিবেশই যেন বদলে গেছে। বিকেল হলেই মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। সেতুর পাশে যদি বসার জায়গা, আলোকসজ্জা ও কিছু সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’

ঘুরতে আসা সরদার সোহেল বলেন, ‘সেতুটির নকশা খুবই সুন্দর। খাল, গাছপালা আর সেতু মিলিয়ে চমৎকার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধামুরা খালের বুকে নির্মিত নান্দনিক আর্চ ব্রিজটি দেখতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার মতো জায়গা। ভালোভাবে উন্নয়ন করা হলে এখানে আরও বেশি দর্শনার্থী আসবেন।’

বরিশাল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বাসস’কে বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় দুটি নান্দনিক আর্চ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল নকশা, স্থায়িত্ব এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে ব্রিজ দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। হাতিরঝিলের আদলে নির্মিত ব্রিজ দুটি দেখতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় করছেন।’

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর আশপাশে পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা, বসার ব্যবস্থা ও নিরাপদ দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এতে ধামুরা আর্চ ব্রিজটি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি উজিরপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews