
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পে-স্কেল নিয়ে সরকারের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সব দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এ বছরের মধ্যে হবে, সবই হবে। কিন্তু এখানে তো অনেকগুলো আলোচনার বিষয় আছে। আজকে আমরা একটি দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে। সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে সেটি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব।’
এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও জানান, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, খুব দ্রুতই সরকার এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও বিচার বিভাগের বেতনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে কমিশনের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও বলেছিলেন তিনি।
তবে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। বিগত সরকারের বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকলেও অর্থের সংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়ও বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর গত বছর নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।
সে সময় কমিশন জানায়, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।