
আজ রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের স্বার্থকে আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত হলো কৃষি। কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রম, নতুন নতুন উচ্চফলনশীল জাত ও কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকেরা দুর্নীতি করেন না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।’
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যাতে সঠিক মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইতোমধ্যে এতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বলেও জানান তিনি।
বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতির নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
কৃষকদের সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই কৃষকেরা এসব উদ্যোগের সুফল পাবেন।
সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বিনা সুদে ঋণের সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন ও জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, বজ্রপাত ও সাপে কাটার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণ সুলভে সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এ খাতে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসতে তিনি সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া কৃষিপ্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া এবং খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। কৃষিঋণের সুদ, বিশেষ করে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগের কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান। তিনি মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।