1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
গরমে প্রতি বছর দেশে দেড় বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

গরমে প্রতি বছর দেশে দেড় বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

অতিরিক্ত গরমে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়ায় প্রতি বছর বাংলাদেশের দেড়শ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘একটি বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোয় চরম তাপ থেকে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই খবর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের দশমিক ৩ শতাংশের বেশি। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালে উৎপাদনশীলতাজনিত ক্ষতি দ্রুত বাড়ে বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

তাপদাহের সর্বাধিক প্রভাব পড়ছে ঢাকায়। রাজধানীতে প্রতি বছর প্রায় ৩ শতাংশ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমান। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে ক্ষতি দ্বিগুণের বেশি হতে পারে এবং উৎপাদনশীল সময়ের প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারিয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতও শত শত কোটি ডলারের ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ও কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের যৌথ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক খাতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় কমতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়নে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। বিদ্যুৎ ও পানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সরকার ২০১৬ সালে ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ গঠন করে। কয়েকটি কারখানা দিয়ে শুরু হওয়া উদ্যোগটি পরে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের ‘পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল’ ও টেকসই ঋণ সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে দেশে ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন’ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা ২৭০ ছাড়িয়ে গেছে।

অতিরিক্ত গরমে নারী শ্রমিকরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় তাদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন কাজের সমপরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে, যদিও তখন প্রায় ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হওয়ার কথা। কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি তাই বড় হুমকি।

২০৭০ সাল নাগাদ প্রায় ৫২ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস বিপজ্জনক গরমের মুখে পড়বে, যা বর্তমানের চার গুণ। ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজের’ হিসাবে, ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে তাপদাহে মৃত্যু দ্বিগুণ এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় চার গুণ হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, গরমে শ্রমিকের সক্ষমতা ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জরুরি অবকাঠামো এবং শহরের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। কম আয়ের মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক, নারী, প্রবীণ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহসভাপতি জোহানেস জুট বলেন, উত্তাপসহনশীল নগর মানুষের জীবন ও চাকরি রক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখবে। এখনই সঠিক পদক্ষেপ নিলে টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও চমৎকার বসবাসযোগ্য শহর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews