
গৌরনদী প্রতিনিধি // বরিশালের গৌরনদীতে সাকুরা পরিবহনের একটি বাস ও তেলবাহী লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এক নারী গুরুতর আহত হয়ে তাঁর ডান পা হারিয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। আহত লরিচালকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয় যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও গৌরনদী হাইওয়ে থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালান। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের দক্ষিণ কটকস্থল দিঘির পার এলাকার বাসিন্দা শামীম প্যাদার স্ত্রী। সংঘর্ষে তাঁর ডান পা খণ্ডিত হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁর চিকিৎসায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও মানবিক ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা। চালকদের বেপরোয়া গতির অভিযোগ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের কেউ কেউ বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে সাকুরা পরিবহনের বাসগুলোর বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে চলাচল নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, যাত্রীবাহী বাসগুলো যেন অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কভাবে না চালানো হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং কার গাফিলতিতে সংঘর্ষ ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়রা সাকুরা পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি চালকদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।