
নিজস্ব প্রতিবেদক // পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের তিন প্রতিবন্ধী সহোদর রিপন দাস, সাধন দাস ও নিদু দাসের জীবন বদলে গেছে। দীর্ঘদিনের স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির সংকট দূর করতে তাদের বাড়িতে একটি পাকা শৌচাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব ব্যবস্থা করা হয়।
সম্প্রতি তিন ভাইয়ের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র নিয়ে দৈনিক প্রিন্ট, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়াসহ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এ সংবাদটি নজরে আসার পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিত্তবান মানুষ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জন্ম থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন তিন ভাই। সাধন দাস জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অন্যদিকে রিপন দাস ও নিদু দাস বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। এক বছর আগে তাদের বাবা রতন চন্দ্র দাস মারা যান। এরপর তিন ভাইয়ের একমাত্র আশ্রয় ছিলেন মা সরস্বতী রানী। কিন্তু লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন আগে তিনিও মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর পর পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েন তিন ভাই। খাবারের অভাবে প্রায়ই বাড়ির উঠানে মায়ের সমাধির পাশে খালি প্লেট হাতে বসে থাকতেন তারা। প্রতিবেশীদের সামান্য সহযোগিতায় কখনো একবেলা খাবার জুটলেও অনেক সময় না খেয়েই কাটাতে হতো তাদের দিন-রাত। মায়ের সমাধির পাশে খালি প্লেট হাতে বসে থাকা তিন ভাইয়ের হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই বিষয়টি দেশবাসীর নজরে আসে।
তাদের দুর্দশার খবর প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকিতে তিন ভাইয়ের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। সেই হিসাবে দেশ-বিদেশের মানুষের সহায়তায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ টাকা জমা পড়েছে। তারা এখন নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন; জুটছে তিনবেলা খাবারও। পাকা শৌচাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপনের ফলে দীর্ঘদিনের স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির সংকটও দূর হয়েছে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক সালেহ আহমেদ বলেন, ‘গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের খোঁজ নিয়েছি। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তাদের জন্য একটি শৌচাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, তাদের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন; এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ টাকা এসেছে। প্রশাসন ও সর্বসাধারণের এই সম্মিলিত সহযোগিতায় আজ তাদের কষ্টের দিন ফুরিয়েছে। আমরা তাদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবসময় পাশে রয়েছি।