
নিজস্ব প্রতিবেদক // দুই মাস আগে ডেঙ্গুতে মাকে হারিয়েছে তিন বছরের শিশু অরূপ হালদার। বাড়ির পাশের খালের পাড়ে মায়ের সমাধি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সেই সমাধির কাছে গিয়েই খালের পানিতে পড়ে প্রাণ গেল শিশুটির। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা বাবা অরবিন্দু হালদার। স্ত্রীকে হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে আরেক দফা শোকের ছায়া।
দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের গণকপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরবিন্দু হালদার পেশায় ক্ষুদ্র চা দোকানি। তিন বছর বয়সী ছেলে অরূপ ছাড়াও তার আট বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তার স্ত্রী রিতা হালদার। প্রথমে তাকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় বরিশালে। ধারদেনা করে চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি অরবিন্দু।
পরে বাড়ির পাশের খালের পাড়ে স্ত্রীর সমাধি করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে সন্তানদের জন্য বাড়িতে রান্না করছিলেন অরবিন্দু। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় অরূপ। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের সমাধির কাছে গিয়ে সে খালের পানিতে পড়ে যায়। ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন অরবিন্দু। একপর্যায়ে স্ত্রীর সমাধির কাছে গিয়ে অরূপের জুতা দেখতে পান তিনি।
এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খালে জাল ফেলে শিশুটির খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির ভেতর থেকে অরূপের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রবীর মণ্ডল বলেন, ‘শুনেছি, ঘটনার দিন অরবিন্দু দোকান থেকে তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসে ছেলে-মেয়ের জন্য রান্না করছিলেন। এ সময় তার অগোচরে শিশু অরূপ বাইরে চলে যায়। পরে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে স্ত্রীর সমাধির কাছে শিশুটির জুতা দেখতে পান। এরপর খালে খোঁজাখুঁজি করে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘শুনেছি, শিশুটির মা দুই মাস আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার দুপুরের দিকে শিশুটি খালের পানিতে পড়ে মারা গেছে।