1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
মোংলায় গোডাউনে তেলের পাহাড় - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

মোংলায় গোডাউনে তেলের পাহাড়

  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার // বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে যখন ভোক্তাদের নাভিশ্বাস, তখন বাগেরহাটের মোংলায় একটি গোডাউনে মিলল সয়াবিন তেলের বিশাল মজুত। চোরাই পথে আনা ও অবৈধভাবে মজুদের অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৫ হাজার ৬০০ লিটার বা ৭৮ ব্যারেল সয়াবিন তেল। তবে এত বিপুল পরিমাণ তেলের আমদানি কিংবা ক্রয়ের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি গোডাউন মালিক সবুর।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মোংলা পৌর শহরের তাজমহল সড়ক সংলগ্ন এলাকায় ‘মেসার্স শোভা স্টোর’-এর গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এসব তেল জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমী। পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে গোডাউনের ভেতর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে ৭৮ ব্যারেল সয়াবিন তেল।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সূত্রে জানা গেছে, চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেল মোংলায় এনে একটি গোডাউনে মজুদ করা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। পরে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে গোডাউনে থাকা সয়াবিন তেলের বৈধ উৎস, আমদানি কিংবা ক্রয়ের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু গোডাউন মালিক সবুর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ।

১৫ হাজার ৬০০ লিটার তেল এখন থানায়

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমী জানান, জব্দ করা ১৫ হাজার ৬০০ লিটার সয়াবিন তেল আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অবৈধভাবে তেল আনা ও মজুদের অভিযোগে গোডাউন মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধভাবে পণ্য মজুদকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

‘কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা’—স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, গোডাউন মালিক সবুর দীর্ঘদিন ধরে পণ্য মজুদের সঙ্গে জড়িত। বেশি মুনাফার আশায় পণ্য আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে গোডাউন মালিক সবুরের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

তেলের উৎস কোথায়, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

একটি গোডাউনে ৭৮ ব্যারেল সয়াবিন তেল কীভাবে এলো, কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে, এসব তেলের আমদানি বা সরবরাহের বৈধতা কী এবং এর সঙ্গে কোনো বড় চোরাচালান বা মজুতচক্র জড়িত কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু তেল জব্দ করলেই এর উৎস ও বাজারে সরবরাহের প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে না। জব্দ করা তেলের ক্রয়-বিক্রয় নথি, সরবরাহকারী, পরিবহনপথ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হলে পুরো চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

মজুতের আড়ালে বড় সিন্ডিকেট?

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুত শুধু একজন ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থার একাধিক স্তরের ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই মোংলার এই গোডাউনে পাওয়া ৭৮ ব্যারেল সয়াবিন তেল কেবল একটি অবৈধ মজুতের ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো সরবরাহ ও মজুত সিন্ডিকেট—তদন্তেই মিলবে তার উত্তর।

ভোক্তাদের প্রশ্ন—বাজারে তেলের সংকটের সময় গোডাউনে এত তেল জমল কীভাবে? আর বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এত বড় মজুত এতদিন নজরের বাইরে থাকল কেন?

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews