1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
স্মৃতিতে উজ্জ্বল মুগা খান মসজিদ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

স্মৃতিতে উজ্জ্বল মুগা খান মসজিদ

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে
চার শতকের ইতিহাস বুকে ধারণ করে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি গ্রামে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন মুগা খান জামে মসজিদ। সময়ের পরিবর্তনে আসল নকশা অনেকখানি হারিয়ে গেলেও মসজিদটি এখনো বহন করে চলেছে এলাকার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও অতীত স্মৃতি। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০০ বছর আগে মুঘল আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। চরামদ্দি ইউনিয়নের চরামদ্দি গ্রামে মিয়াবাড়ির হাটসংলগ্ন চরকাউয়া-গোমা সড়কের পূর্ব পাশে এর অবস্থান।

মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল বাসার, মসজিদ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান চুন্নু সিকদারসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাচীন এই মসজিদের স্থাপত্যে পুরোনো নির্মাণশৈলীর নানা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তিন গম্বুজবিশিষ্ট মূল মসজিদটির মাঝের গম্বুজটি তুলনামূলক বড়। মেঝে থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট।

মূল মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থ ১৮ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৩৫ ইঞ্চি। ইট, চুন ও সুরকি দিয়ে নির্মিত মূল স্থাপনার পূর্ব দেয়ালে রয়েছে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। দরজার ওপরের অংশে রয়েছে নকশা। প্রতিটি দরজার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ও প্রস্থ ৩ ফুট। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য রয়েছে জানালা।

মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে একটি মিহরাব। এর ওপরের অংশ ফুল-পাতার নকশায় অলংকৃত। বিভিন্ন স্থানেও রয়েছে পুরোনো অলংকরণের ছাপ। মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দেয়ালে চারটি করে মোট আটটি মিনার রয়েছে। গম্বুজ ও মিনারের শীর্ষে একসময় পিতলের কলস সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে তিনটি কলস দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাকি পাঁচটি চুরি হয়ে গেছে।

মসজিদের ভেতরে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে পুরোনো একটি রেহাবি। এর মধ্যাংশে ক্যালিগ্রাফিশৈলীতে সুরা ইখলাস লেখা রয়েছে। মূল মসজিদের চার দেয়ালের মাঝ বরাবর প্রায় এক ফুট চওড়া অংশে পবিত্র কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করা রয়েছে।

পুরোনো স্থাপনার অনেক নিদর্শন এখন আর নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের দেয়ালের টেরাকোটা ও অলংকৃত নকশা সংস্কারের সময় সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এসব নকশা নামাজিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত বলে জানান তারা। পরবর্তী সংস্কারে ভেতরের নকশা ও ক্যালিগ্রাফিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে পুরোনো মসজিদের পলেস্তারা খসে পড়ার উপক্রম হলে প্রথম বড় ধরনের সংস্কার করা হয়। সে সময় মূল ভবনের কাঠামো ঠিক রেখে সংস্কার করা হয় এবং ভেতরের টেরাকোটা ও ক্যালিগ্রাফি তখনও অক্ষত ছিল। ২০১৮ সালে মসজিদের বর্ধিত ভবন ও তৃতীয় তলা নির্মাণ করা হয়। ওই সময় ভেতরের ক্যালিগ্রাফি পরিবর্তন করে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত নতুন করে লেখা হয়। বর্তমানে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মূল প্রাচীন মসজিদ ভবনের ভেতরে দুই সারিতে প্রায় ৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

মসজিদের উত্তর-পূর্ব পাশে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের থাকার জন্য একটি ভবন রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মুগা খান নিজ উদ্যোগে এ ভবন নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।

মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে প্রধান প্রবেশদ্বার। ওই অংশেই মুগা খানসহ দক্ষিণ বাংলার পরিচিত দরবেশ ইয়াকীন শাহ, দানবীর হাজি আছমত আলী খানসহ কয়েকজনের কবর রয়েছে। পূর্ব পাশে রয়েছে মসজিদের আঙিনা।

স্থানীয়দের মতে, কয়েক শতাব্দী ধরে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এই মসজিদ এলাকার মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবনে পরিবর্তন এলেও মসজিদটি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের একটি যোগসূত্র হিসেবে টিকে রয়েছে।

মসজিদটির প্রকৃত ইতিহাস, নির্মাণকাল ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে এখনো বিস্তারিত গবেষণা ও সরকারি নথিভুক্তকরণের উদ্যোগ নেই। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থাগুলো মসজিদটির ইতিহাস ও স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা, নথিভুক্তকরণ এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews