
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ঢাকার ধামরাইয়ে চার বছরেও শেষ হয়নি পশ্চিম দেপাশাই বংশী নদীতে ব্রিজ নির্মাণ কাজ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলেও সেটিও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় সেতুটির কাজ চলমান। তবে টেন্ডারে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
স্থানীয়রা জানায়, দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের পারাপারের জন্য ২০০৪ সালের দিকে বংশী নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করেন তৎকালীন বিএনপি সরকার। ব্রিজটি সরু হওয়ায় ২০২২ সালের ৩১ মে ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য।
উপজেলা এলজিইডি দপ্তর থেকে জানা যায়, উদ্বোধনের পর কাজ শুরু করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামার জান আনোয়ারা জেবি। তাদের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৩ জুন ২০২৩। কিন্তু তারা পূর্বের ব্রিজ ভেঙে মালামাল নিয়ে চলে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় স্থানীয়দের ভোগান্তি। পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর ২০২৪ সালে রিটেন্ডারে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নতুন চুক্তিতে কাজ পায় মেসার্স উপকূল করপোরেশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তাদের নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে ১২ আগস্ট ২০২৬ এর মধ্যে। প্রায় ২ বছর শেষ হলেও ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়নি। ধীর গতিতে কাজ করায় ব্রিজ নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা রডের মধ্যে পড়েছে মরিচা।
ধীরগতির কাজ সম্পর্কে জানতে ঠিকাদার আমজাদ হোসেন পিএমকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি রিসিভ হয়নি।
ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ সামাজিক কিছু কারণে কাজের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ করার জন্য আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন বলেন, ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ চলমান। যাতে কাজ দ্রুত হয় সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।